নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬ সকাল ১০:২৭:২২
ট্রাম্প না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকতো না, নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেইনস শহরে চলমান জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করে বলেছেন, তিনি নিজে না থাকলে বর্তমান পৃথিবীতে ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্বই থাকত না।
ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়াকরণকে কেন্দ্র করে বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই তেল আবিবের ওপর ওয়াশিংটনের ক্ষোভ বাড়ছিল এবং রোববার (১৪ জুন) সেই চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার পর এই দুই মিত্র দেশের মধ্যকার ফাটল এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশগুলোর এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে আয়োজিত এক যৌথ বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি নিয়ে কথা বলার সময় এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্ব থাকত না। আমাকে ছাড়া ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্ব থাকত না, কারণ অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট আমি যা করেছি তা করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না।’
নিজের রাজনৈতিক ও সামরিক অবদানের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, ‘আমি যদি এই প্রক্রিয়ায় জড়িত না হতাম, তবে অনেক আগেই ইসরায়েল বোমা বিস্ফোরণে উড়ে যেত।’ তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত দূরত্ব বা অসন্তোষ রয়েছে কি না তা অস্বীকার করে ট্রাম্প জানান যে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার এখনো একটি চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি লেবাননে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি বিমান হামলার তীব্র সমালোচনা করে বলেন যে সেখানে অনেক বেশি সাধারণ বেসামরিক নাগরিক নিহত হচ্ছেন।
লেবাননের একটি সুনির্দিষ্ট কিন্তু নাম প্রকাশ না করা ইসরায়েলি হামলার দৃশ্য উল্লেখ করে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, ‘আমি সেই হামলাটি দেখেছি, আমি দেখেছি বোমাটি কোথায় আঘাত করেছে। ওটা অত্যন্ত নৃশংস ছিল।’ এর পাশাপাশি তিনি লেবানন সীমান্তে সামরিক তৎপরতা পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আরও অনেক বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি সংকেত দিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে দেশটির ওপর চর্তুমুখী বিমান হামলা শুরু করেছিল। তবে দীর্ঘ সংঘাতের পর গত রবিবার ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে একটি স্বাধীন শান্তি চুক্তি সম্পন্ন করায় এখন ইসরায়েলের সামরিক অবস্থানের সঙ্গে আমেরিকার এক ধরনের প্রকাশ্য দূরত্ব তৈরি হচ্ছে।
সূত্র: নিউজউইক