আশরাফুল ইসলাম রাজন, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬ বিকাল ০৪:১১:০৪
নিখোঁজের চার দিন পর কটিয়াদীতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মিলল ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ
নিহত জিল্লুর রহমান নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চরগোহালবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিবার নিয়ে কটিয়াদী পৌরসভার ভোগপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কটিয়াদী পৌর এলাকার রিকশার মোড়ে ‘মুন ডিজিটাল স্টুডিও অ্যান্ড কালার ল্যাব’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন জিল্লুর রহমান। পাশাপাশি ভোগপাড়া এলাকায় ‘অন-টাইম প্লেট অ্যান্ড গ্লাস’ তৈরির একটি কারখানাও গড়ে তোলেন তিনি।
স্বজনদের ভাষ্য, প্রতিদিনের মতো গত শুক্রবার সকালে বাসা থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হন জিল্লুর রহমান। দুপুরের দিকে স্ত্রীর সঙ্গে তার সর্বশেষ মোবাইল ফোনে কথা হয়। এরপর থেকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান না পাওয়ায় উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে।
চার দিন পর সোমবার সকালে স্ত্রী ও স্বজনরা তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলে মেঝেতে অর্ধগলিত অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় কটিয়াদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তোফাজ্জল হোসেনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
কারখানার দুই নারী কর্মী মদিনা ও শারমিন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা সর্বশেষ কারখানায় কাজ করেছিলেন। এরপর আর তাদের ডাকা হয়নি। তারা বলেন, “এখানে আরও একজন ড্রাইভার কাজ করতেন। তবে তার পূর্ণ পরিচয় আমরা জানি না। মালামাল এলে আমাদের ফোন দিয়ে ডাকা হতো। এরপর আর কোনো ফোন পাইনি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই ড্রাইভারের খোঁজও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে না। এতে ঘটনাটিকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
নিহতের স্ত্রী অন্তরা বলেন, “শুক্রবার সকালে নাস্তা করে তিনি বাসা থেকে বের হন। দুপুরে শেষবার কথা হয়। এরপর থেকে ফোন দিলেও তিনি আর রিসিভ করেননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর আজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তার মরদেহ পাই।”
চাচাতো ভাই আব্দুল হাশিম বলেন, “আমার ভাই খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল বুঝতে পারছি না। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”
কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আগে কোনো নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়নি। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।