মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার থেকে
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬ রাত ০৮:৩২:৫৯
মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ সংলগ্ন ফুটপাথে ড্রেনের স্ল্যাব ভেঙে চরম ঝুঁকি
বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন জেলা মৌলভীবাজার-এর শহর এলাকায় জনদুর্ভোগের একটি উদ্বেগজনক চিত্র দেখা যাচ্ছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ সংলগ্ন সড়কের ফুটপাথে ড্রেনের স্ল্যাব ভেঙে পড়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটপাথের একটি বড় অংশের স্ল্যাব ভেঙে নিচে ড্রেন উন্মুক্ত হয়ে রয়েছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দা এই পথ ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন ধরে এটি সংস্কার না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এবং বৃষ্টির সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
এলাকাটিতে পলিথিন, প্লাস্টিক বোতলসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা জমে থাকায় ড্রেনের পানি নিষ্কাশনেও বিঘ্ন ঘটছে। এতে যেমন জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, তেমনি অসতর্ক পথচারীদের জন্য বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
কলেজের শিক্ষার্থী মনি দাশ বলেন, “আমরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি। স্ল্যাব ভাঙা থাকায় প্রায়ই হোঁচট খেতে হয়। রাতে তো কিছুই দেখা যায় না—খুব ভয় লাগে।”
এ বিষয়ে প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল হামিদ মাহবুব তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে সমস্যাটি তুলে ধরেন, যা সচেতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি জানান, নিজ উদ্যোগে স্ল্যাবগুলো সরানোর চেষ্টা করলেও একার পক্ষে তা সম্ভব হয়নি। আশপাশের লোকজনকে আহ্বান জানালেও তেমন সাড়া পাননি। তিনি অতীত স্মৃতিচারণ করে বলেন, ছোটবেলায় বিভিন্ন স্বেচ্ছাশ্রমমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিলেও বর্তমানে সেই সচেতনতার অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্থানীয় দোকানদার জামাল হোসেন বলেন, “অনেকদিন ধরে এই অবস্থা চলছে। কয়েকটি ছোট দুর্ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু এখনো কেউ এসে মেরামত করেনি। পর্যটন শহরের জন্য এটা লজ্জাজনক।”
একজন পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মৌলভীবাজারকে পর্যটন নগরী বলা হয়, কিন্তু শহরের এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই অবস্থা থাকলে বাইরের মানুষের কাছে নেতিবাচক বার্তা যায়।”
অভিভাবক রুমেল মিয়া বলেন, “আমার ছেলে-মেয়ে প্রতিদিন এই পথ দিয়ে কলেজে যায়। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।”
সচেতন মহলের দাবি, একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন জেলা হিসেবে মৌলভীবাজারের ভাবমূর্তি রক্ষায় দ্রুত অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোর সমাধান জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পৌরসভা-এর প্রশাসক মোঃ রুবেল মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও কোনো নম্বরেই সংযোগ পাওয়া যায়নি।