চাঁদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৫:৫৯:৩৩
চাঁদপুরে হামে আক্রান্ত ২৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি, মৃত্যু ৩
চাঁদপুরে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। জেলায় এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ২৮ জন শিশুকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ৩ শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। এতে অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে চাঁদপুর সদর জেনারেল হাসপাতালে সর্বাধিক ২২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন এবং মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও ৩ জন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই জ্বর, সর্দি ও কাশিসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চাঁদপুর সদর জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা গেছে, রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সেখানে বেড সংকট দেখা দিয়েছে। হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যসেবার ওপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চাঁদপুর সদরের লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন থেকে আসা এক অভিভাবক লাকি বলেন, “আমার শিশুর দুই দিন ধরে সারা শরীরে ফুসকুড়ি উঠেছে। জ্বর, কাশি ও চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে সুস্থ হয়ে উঠবে।”
অন্যদিকে, প্রত্যয় ঘোষ নামের এক শিশু নিউমোনিয়া থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর পুনরায় হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার মা বলেন, “সাত দিন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিল। কিন্তু আবার হামের উপসর্গ দেখা দিলে তাকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এখন জ্বর ও শ্বাসকষ্ট রয়েছে।”
শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আজিজুর রহমান জানান, গত এক সপ্তাহে তিনি প্রায় ৫০ জন শিশুর চিকিৎসা দিয়েছেন। যেসব শিশুর খাওয়ার অনীহা, দুর্বলতা বা দ্রুত শ্বাস নেওয়ার মতো জটিল উপসর্গ দেখা যায়, তাদের হাসপাতালে ভর্তি রাখা হচ্ছে। এসব রোগীর জন্য ১০ শয্যার একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হামের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রার জ্বর, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, কাশি এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, স্বাস্থ্য বিভাগ অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। শিশুদের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ যত্ন নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।