রুহুল আমিন কিবরিয়া ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ১২:১৪:৫৭
বগুড়ার সবজির বাজারে দামের ব্যবধান, কৃষক-ভোক্তার মাঝে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য
বগুড়ায় মাঠ থেকে বাজার—সবজির দাম বাড়ছে ধাপে ধাপে। কৃষকের জমি থেকে যে সবজি কম দামে বিক্রি হচ্ছে, তা শহরের বাজারে পৌঁছাতে কয়েক দফা হাতবদল হয়ে বিক্রি হচ্ছে অনেক বেশি দামে। এতে একদিকে ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক, অন্যদিকে বাড়তি দামে সবজি কিনতে গিয়ে চাপে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
কৃষক, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উৎপাদন খরচ, পরিবহন ব্যয়, শ্রমিকের মজুরি এবং বাজারের বিভিন্ন পর্যায়ে হাতবদলের কারণে সবজির দামে ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। তবে এই ব্যবধানের বড় অংশ কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
মাঠে কম, বাজারে বেশি
বগুড়ার মাঠে কৃষকের কাছ থেকে প্রতি কেজি পটল ৩০ টাকায় কেনা হলেও তা শহরের বাজারে পৌঁছে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। একইভাবে বিভিন্ন সবজির দামেও দেখা যাচ্ছে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান।
কৃষকের উৎপাদিত সবজি পাইকারি বাজারে বিক্রি হওয়ার পর পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হয়ে খুচরা বাজারে পৌঁছায়। একাধিক হাতবদলের কারণে বাড়ে দাম। এতে কৃষক ও ভোক্তার মাঝখানে তৈরি হচ্ছে দামের বড় ফারাক।
খরচ বাড়ছে, লাভ কমছে কৃষকের
কৃষকদের ভাষ্য, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিকের মজুরি ও জমি প্রস্তুতের খরচ দিন দিন বাড়ছে। সবজি উৎপাদন করতে গিয়ে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না তাঁরা।
অন্যদিকে, বাজারে সবজির দাম বাড়লেও সেই বাড়তি অর্থের পুরোটা কৃষকের হাতে পৌঁছাচ্ছে না। ফলে উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ কমে যাচ্ছে।
পরিবহন ও হাতবদলে বাড়ছে দাম
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাঠ থেকে সবজি সংগ্রহ, শ্রমিকের মজুরি, গাড়িভাড়া ও বাজারের বিভিন্ন খরচ যুক্ত হওয়ায় দাম বাড়ে। দূরবর্তী এলাকা থেকে সবজি আনতে পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে।
তবে কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে দামের ব্যবধান কমাতে বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
বাজার তদারকির দাবি
সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষক যাতে উৎপাদিত সবজির ন্যায্য দাম পান এবং ভোক্তারা সহনীয় মূল্যে পণ্য কিনতে পারেন, সে জন্য বাজারের প্রতিটি পর্যায়ে দাম নির্ধারণ ও হাতবদলের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
কৃষক ও ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় উৎপাদনস্থল থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত দামের ব্যবধান কমানো এবং বাজারে কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।