নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৩:৪০:০৮
মতলবে হিন্দু বিয়েবাড়িতে হামলা: এক সপ্তাহেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ
চাঁদপুর মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নের রায়েরকান্দি নমোপাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি বিয়েবাড়িতে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় ১৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী।
মামলার বাদী বাবু লাল বিশ্বাস (৬০) অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার তিন ছেলে প্রবাসে থাকেন। ছেলের বিয়েকে কেন্দ্র করে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এলাকার কিশোর গ্যাংখ্যাত কয়েকজন ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করলে তার ছেলে বিশ্বনাথ বিশ্বাস ৩ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২৫ ফেব্রুয়ারি বিয়ের চলনে যাওয়ার সময় আসামিরা বাধা সৃষ্টি করে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় সেদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বাড়ির উঠানে ক্যারাম খেলার সময় আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ত্রিনাথ বিশ্বাসের মাথায় লাঠির আঘাতে রক্তাক্ত জখম হয় এবং তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একইভাবে শম্ভুনাথ বিশ্বাসের গলা থেকেও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে অতিথিদের মারধর, ঘরের টিনের বেড়া ভাঙচুর এবং সংখ্যালঘু পরিচয় উল্লেখ করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা ও চিকিৎসাজনিত কারণে মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানান বাদী।
মামলার আসামিরা হলেন— আরমান (১৮), আবির বকাউল (১৮), জিলান (১৯), শুভ (১৮), নিহাদ (১৯), মোহন (২২), আলিফ (২২), নিরব ফকির (১৮), মিনহাজ ফকির (১৯), সোহান (১৯), রিয়াদ মোল্লা (১৮), সাইফ (১৮)সহ আরও কয়েকজন।
বাদী বাবু লাল বিশ্বাস বলেন, “মামলা করার পরও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। বিভিন্নভাবে মীমাংসার চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার না করে এলাকার নিরীহ লোকজন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে সমঝোতার মাধ্যমে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, “মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”