রুট ও সময়সূচি নিয়ে অসন্তোষ, কর্মজীবী নারীদের বড় অংশই নিতে পারছেন না সেবা
রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ১২:০৬:৪৯
বগুড়ায় মহিলা বাসে যাত্রী সংকট, মাসে লোকসান ৩ লাখের বেশি
নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে বগুড়ায় চালু করা হয়েছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) মহিলা বাস সার্ভিস। তবে চালুর এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। দিনের অধিকাংশ সময়ই ৪৫ আসনের বাস দুটির বেশির ভাগ আসন ফাঁকা থাকছে। এতে আয়-ব্যয়ের হিসাবে প্রতি মাসে তিন লাখ টাকার বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছে বিআরটিসিকে।
গত ১৮ আগস্ট বগুড়া বিআরটিসি বাস ডিপোতে মহিলা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়। পরদিন থেকেই দুটি বাস নির্ধারিত দুটি রুটে চলাচল শুরু করে। একটি বাস মাটিডালী হয়ে শেরপুর এবং অপরটি বনানী হয়ে মোকামতলা রুটে চলছে।
বিআরটিসি ডিপো সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর রুটের বাসটি প্রতিদিন সকাল ৭টায় বগুড়া ডিপো থেকে ছেড়ে মাটিডালী হয়ে শেরপুর যায়। বিকেল ৪টায় সেখান থেকে আবার বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হয়। অন্য বাসটি দুপুর ১২টায় বগুড়া ডিপো থেকে মোকামতলার উদ্দেশে ছাড়ে এবং বিকেল ৪টায় ফিরে আসে।
তবে নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে যাত্রীদের প্রয়োজনের মিল না থাকায় বাস দুটিতে যাত্রীসংখ্যা কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের জন্য সময়সূচি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে শেরপুর ও মোকামতলা রুটে দেখা যায়, বাস দুটির অধিকাংশ আসনই ফাঁকা। পথে কিছু স্কুল-কলেজের ছাত্রী বাসে উঠলেও কর্মজীবী নারীর সংখ্যা ছিল কম।
শেরপুরের একটি কলেজে কর্মরত শামিমা বেগম বলেন, মহিলা বাস চালুর পর তিনি মাঝেমধ্যে এতে যাতায়াত করেন। তবে সময়সূচি তাঁর জন্য সুবিধাজনক নয়। সকাল ৭টায় বাস ডিপো থেকে বাস ছাড়ায় অনেক চাকরিজীবী নারী এ সুবিধা নিতে পারছেন না। কারণ তাঁদের কর্মস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি ও বাসা থেকে বের হওয়ার সময় এর চেয়ে পরে।
মোকামতলা রুটের চিত্র আরও ভিন্ন। দুপুর ১২টায় বাস ছাড়ার কারণে সকালে কর্মস্থলমুখী নারীরা এই সেবা নিতে পারছেন না। ফলে প্রয়োজনের সময় গণপরিবহন না পেয়ে তাঁদের বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
বিআরটিসি বগুড়া বাস ডিপো সূত্র জানায়, পুরোনো দুটি বাসকে গোলাপি রং করে মহিলা বাস হিসেবে চালানো হচ্ছে। বাস দুটি পরিচালনায় রয়েছেন ছয়জন নারী ও একজন পুরুষ কর্মচারী। শুধু কর্মীদের দৈনিক খাবার ভাতা বাবদ ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। এর সঙ্গে রয়েছে বেতন, জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য খরচ।
অন্যদিকে বাস দুটি থেকে প্রতিদিন আয় হচ্ছে দুই হাজার টাকার কিছু বেশি। ডিপো কর্তৃপক্ষের হিসাবে, প্রতি মাসে শুধু ডিজেল বাবদই ব্যয় হচ্ছে প্রায় দেড় লাখ টাকা।
বিআরটিসি বগুড়া বাস ডিপোর ম্যানেজার (অপারেশন) শাহিনুর ইসলাম বলেন, যাত্রীদের জন্য অর্ধেক ভাড়ায় সেবা দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও বিআরটিসির ভাড়া বাড়ানো হয়নি। দুটি বাস পরিচালনায় জ্বালানি, কর্মচারীদের বেতন, খাবার ভাতা ও রক্ষণাবেক্ষণসহ সব খরচ মিলিয়ে মাসে তিন লাখ টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে।
ভাড়ার দিক থেকে অবশ্য মহিলা বাসে যাত্রীদের জন্য সুবিধা রয়েছে। বগুড়া থেকে শেরপুরের সাধারণ বাসভাড়া যেখানে ৭২ টাকা, সেখানে মহিলা বাসে নেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩০ টাকা। এরপরও যাত্রী আকর্ষণ করা যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টদের মতে, যাত্রী কম হওয়ার প্রধান কারণ ভাড়া নয়; বরং রুট ও সময়সূচি। কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থী, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণির নারীদের যাতায়াতের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে সময়সূচি নির্ধারণ করা না হলে এ সেবা থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন।
যাত্রীদেরও অভিযোগ, প্রয়োজনের সময় বাস না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে তাঁদের অটোরিকশা, ইজিবাইক কিংবা রিকশায় চলাচল করতে হচ্ছে। ফলে কম ভাড়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও মহিলা বাস সার্ভিসে যাত্রী বাড়ছে না।