মো. বাবুল
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬ রাত ০৮:০৭:৫২
নবীনগরে ‘ভণ্ড কবিরাজ’ কামরুলের গ্রেফতারের দাবি স্থানীয়দের
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে কথিত ভণ্ড কবিরাজ কামরুল ইসলামকে গ্রেফতারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সরেজমিনে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম উপজেলার রছুল্লাবাদ ইউনিয়নের উত্তর দাররা (দাল্লা) গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে। শুরুতে তিনি উপজেলার জাফরপুর গ্রামের একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। পরবর্তীতে ওই গ্রামে দুই ছেলের ওপর ‘জ্বীনের নাটক’ সাজানোর অভিযোগে স্থানীয়দের তোপের মুখে সেখান থেকে বিতাড়িত হন।
এরপর উপজেলা সদরের মাঝিকাড়া গ্রামের খাদ্যগুদাম সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত কক্ষে আস্তানা গড়ে তোলেন তিনি। সেখানে মানব হাড়-কঙ্কাল প্রদর্শনসহ নানা কৌশলে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও প্রলোভন দিয়ে ‘জ্বীন চিকিৎসা’র নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য কলহ, জটিল সমস্যা সমাধানসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশেষ করে নারীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতেন তিনি। তার ‘হাদিয়া’ ২১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে তিন লাখ টাকারও বেশি পর্যন্ত নেওয়া হতো বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অর্থ দিয়ে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন কামরুল। পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঈদগাহের পেছনে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমিতে ‘নোহা অ্যান্ড কোহিনূর মঞ্জিল’ নামে একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। এছাড়া নিজের পক্ষে জনমত তৈরি করতে মাঝে মাঝে বড় আয়োজন করে ভোজের ব্যবস্থাও করেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
এদিকে, তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে প্রভাবশালী মহলের চাপ ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করেন, তার বিরুদ্ধে কথা বললে ‘জাদুটোনা’ দিয়ে ক্ষতি করতে পারে।
পৌর শহরের খাজানগর এলাকার ভুক্তভোগী শাকিলের বক্তব্য বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার গ্রেফতার ও অবৈধ সম্পদ জব্দের দাবিতে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ভুক্তভোগী শাকিল অভিযোগ করে বলেন, “আমার সংসার না ভাঙতে অনেক অনুরোধ করেছি। কিন্তু সে কর্ণপাত করেনি। টাকার লোভে আমার স্ত্রীকে ১৬ মাসের সন্তানসহ অন্য একজনের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেয় এবং আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে।”
আরেক ভুক্তভোগী ঝরনা (ছদ্মনাম) জানান, “অনেক মানুষকে যেতে দেখে আমিও যাই। ২১ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু করে পরে এক লাখ ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি, এখন আর আমাকে গুরুত্বও দিচ্ছে না।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় থেকেই তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তার কারণে অনেক প্রবাসীর সংসার ভেঙে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে কামরুল ইসলাম দাবি করেন, ব্যাংক ঋণ নিয়ে তিনি বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তবে ঋণের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে সন্তোষজনক কোনো উত্তর দেননি। ‘জ্বীনের নাটক’ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সেখান থেকে সরে যান।
এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি দেখেছি। এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।