মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৭ মার্চ ২০২৬ রাত ০৭:০৬:৪৬
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেই সাংবাদিকের ওপর হামলার চেষ্টা, থানায় অভিযোগ
ঘটনাটি ঘটে শ্রীমঙ্গল শহরতলীর সবুজবাগ আবাসিক এলাকার শ্মশানঘাটে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দোল পূর্ণিমা উৎসবের অনুষ্ঠানে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে সবুজবাগ দোল পূর্ণিমা উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং একুশে টেলিভিশন ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মৌলভীবাজার প্রতিনিধি বিকুল চক্রবর্তী। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহিবুল্লাহ আকন্দ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী, উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা মৃণালকান্তি দাশ তাপস, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক পিয়াস দাশসহ অন্যান্য অতিথিরা।
অভিযোগে বলা হয়, অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহিবুল্লাহ আকন্দ। এ সময় সবুজবাগ এলাকার সুব্রত চক্রবর্তী সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তীকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে মঞ্চে উঠে তার ওপর হামলার চেষ্টা করেন। তখন মঞ্চে থাকা ইউপি সদস্য পিয়াস দাশ দ্রুত তাকে ধরে ফেললে হামলা থেকে রক্ষা পান বিকুল চক্রবর্তী। পরে সুব্রতকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার সময় সুব্রত আবারও মঞ্চে উঠে হামলার চেষ্টা করেন। তখন উপস্থিত অতিথিরা তাকে আবারও অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেন।
এ সময় উপস্থিত ভক্তবৃন্দ উত্তেজিত হয়ে উঠলে ইউপি সদস্য পিয়াস দাশ, বিএনপি নেতা ইয়াকুব আলী ও সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং অনুষ্ঠান শেষে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা চলে যাওয়ার পর শ্মশানঘাটের সড়কে সুব্রত চক্রবর্তী দলবল নিয়ে আবারও বিকুল চক্রবর্তীর ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি কিছুটা আহত হন। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত বিকুল চক্রবর্তীকে পরে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে শ্রীমঙ্গল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিকুল চক্রবর্তী।
সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী বলেন, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাকে হেয় করার চেষ্টা করছে। এর আগেও একটি দুর্বৃত্তচক্র তার অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। এতে তার সংগ্রহে থাকা মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের বহু স্মারক নষ্ট হয়েছে।
তিনি বলেন, “সুব্রত চক্রবর্তী একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস দেখিয়েছে এবং পরে ফেসবুক লাইভে তা স্বীকারও করেছে।”
শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা আশা করিনি একটি সুন্দর ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুব্রত চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।