মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১০:৪৯:৩৭
কমলগঞ্জে অবৈধ বালু-মাটি উত্তোলন, নীরব প্রশাসন
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় দিনদুপুরে চলছে প্রাকৃতিক টিলাভূমি ও সিলিকা বালুসমৃদ্ধ পাহাড়ি ছড়া কেটে নেওয়ার মহোৎসব। এমনকি সেতুর নিচ থেকেও প্রকাশ্যে পলিমাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়লেও এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না উপজেলা প্রশাসন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের ছয়ঘড়ি এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা ভেকু মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে প্রাকৃতিক টিলার লাল মাটি কেটে সমতলে পরিণত করছে। একইভাবে আলীনগর ইউনিয়নের সুনছড়া চা-বাগানসংলগ্ন টিলাভূমি, যা একটি প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত, সেখানেও দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র টিলা ও পাহাড়ি ছড়ার বাঁধ কেটে সিলিকা বালু উত্তোলন করছে।
প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রতিদিন ট্রাক, পিকআপ ও ট্রলিযোগে এসব সিলিকা বালু পরিবহন ও বাণিজ্য অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা মাঝেমধ্যে বালুবাহী যানবাহন জব্দ করলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ২৩ এপ্রিল রাতে সুনছড়া এলাকা থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালুবাহী একটি ট্রাক আটক করে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলেও ওই গাড়ির বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে তারা দাবি করেন।
এদিকে উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর এলাকায় ধলাই নদের ওপর নির্মিত স্টিল সেতুর নিচ থেকেও অবাধে পলিমাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা দীর্ঘদিন ধরে নদীর বাঁধ ও সেতুর নিচ থেকে মাটি কেটে নেওয়ায় সেতুটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। যেকোনো সময় সেতু ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টিলা কাটা, পাহাড়ি ছড়া এবং আশপাশের এলাকা থেকে সিলিকা বালু উত্তোলন করে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র।
এ বিষয়ে স্থানীয় কলেজ শিক্ষক জমশেদ আলী বলেন, প্রশাসনের অবহেলার কারণে উপজেলার প্রাকৃতিক অনেক দর্শনীয় স্থান ধ্বংসের মুখে পড়ছে।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “ইসলামপুর ইউনিয়নে টিলা কাটার বিষয়টি জেনেছি। বিষ্ণুপুরে সেতুর নিচ থেকে মাটি কাটা ও সুনছড়া থেকে সিলিকা বালু উত্তোলনের বিষয়গুলো তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”