নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৪:২৬:২২
পর্যটন শিল্প সুরক্ষায় কঠোর অবস্থানে কক্সবাজার পুলিশ, অসত্য অভিযোগে চ্যালেঞ্জ
দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পকে ঘিরে নতুন এক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে ট্যুরিস্ট পুলিশ–এর বিরুদ্ধে অবকাঠামো ভাড়া দিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ তোলা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে তা প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে লায়লাসহ কয়েকজন টিকটকারকে গ্রেপ্তার করার পরই একটি প্রভাবশালী চক্র পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ আজ বুধবার (৪ মার্চ) সংশ্লিষ্ট এক টিকটকার তরুণীর বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন বলে জানা যায়।
পুলিশ সূত্র আরও জানায়, অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার, সমুদ্রসৈকতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, পর্যটন এলাকায় আইন অমান্যকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের এক লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট দলিল, তথ্যপ্রমাণ বা অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়নি। সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও তা অনুসরণ করা হয়নি বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
রিজিয়ন প্রধান বলেন, চলমান উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষুব্ধ একটি চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করছে।
তিনি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে আমরা চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি—প্রমাণ থাকলে প্রকাশ করুন, আমরা যেকোনো তদন্তে সহযোগিতা করব।
এদিকে সৈকতসংলগ্ন ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিচের বিভিন্ন অংশে অবৈধ দোকান বসিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ছিল।
এক হোটেল ব্যবসায়ী বলেন, অবৈধ দোকান ও চাঁদাবাজির কারণে পর্যটকদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছিল, যা পর্যটন শিল্পের জন্য ক্ষতিকর ছিল। অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ যেভাবে বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছেন, তা ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।