মতলব উত্তর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৫ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৪:৪৭:৪৩
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ডে নাম অন্তর্ভুক্তির নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ডে নাম অন্তর্ভুক্তির কথা বলে নগদ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আজহারুল হক ঝারুনের বিরুদ্ধে। তিনি সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য শিউলি আক্তারের স্বামী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শিউলি আক্তারের স্বামী আজহারুল হক ঝারুন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি বাংলাদেশের গ্রামীণ অতিদরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ। এ কর্মসূচিতে বিধবা, দুস্থ নারী, প্রতিবন্ধী ও ভূমিহীন দিনমজুর পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মধ্য ইসলামাবাদ এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, একই এলাকার মো. সাল্লাউদ্দিনের ছেলে মো. ফারুক হোসেন জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ডে নাম অন্তর্ভুক্তির কথা বলে তার কাছ থেকে ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়। একই গ্রামের আব্দুল খালেক প্রধানের মেয়ে আমেনা বেগমের কাছ থেকেও দেড় হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে মৃত মনছুর আলী দর্জির ছেলে আবুল বাশার অভিযোগ করেন, তার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তার বোনের কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রকৃত সুবিধাভোগীরা এই কর্মসূচির সুবিধা না পেলেও টাকার বিনিময়ে প্রবাসী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তাদের দাবি, সাবেক ইউপি সদস্য আজহারুল হক ঝারুন বিভিন্ন সময় ভিজিডি কার্ড, মাতৃত্বকালীন ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং সরকারি গভীর নলকূপ দেওয়ার কথা বলে অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী মৃত শামসুল হকের মেয়ে রাশিদা আক্তার (ডাক্তার) অভিযোগ করেন, গভীর নলকূপ দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ১৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য আজহারুল হক ঝারুন বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। একটি মহল তাকে হেয় করতে ষড়যন্ত্র করছে।
এ বিষয়ে তার স্ত্রী সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য শিউলি আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ডে নাম অন্তর্ভুক্তির কথা বলে টাকা নেওয়া ফৌজদারি অপরাধ। কেউ এ ধরনের কাজ করে থাকলে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।