শেরপুরে পাঁচ কিশোরের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ, প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ
রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৩:২১:১৮
বিদ্যালয় থেকে ডেকে নিয়ে ৯ শিক্ষার্থীকে ৮ ঘণ্টা গুদামে আটকে রাখার অভিযোগ
বগুড়ার শেরপুরে মহিপুর কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নয় শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় চলাকালে প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে পাশের শাজাহানপুর উপজেলার একটি মুরগির খামারের গুদামে প্রায় আট ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ বলছে, তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক পাঁচ কিশোরের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলার সময় স্থানীয় কয়েকজন কিশোর কৌশলে ওই নয় শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে বাইরে নিয়ে যায়। পরে তাদের বিদ্যালয় থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল এলাকার একটি মুরগির খামারের গুদামে নেওয়া হয়।
এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক শুকুর আলী অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেসহ নয় শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে বিদ্যালয় থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের গুদামের ভেতরে আটকে রাখা হয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিভাবকদের ভাষ্য, প্রায় আট ঘণ্টা পর দুই শিক্ষার্থী টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে গুদাম থেকে বের হয়ে মহিপুর বাজারে আসে। পরে তারা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে বিকেল ৫টার দিকে অভিভাবক ও স্থানীয়রা ওই গুদামে গিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করেন। এ সময় জড়িত কয়েকজন কিশোর পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, তাকে ১০০ টাকা দেওয়ার কথা বলে বিদ্যালয় থেকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে ইজিবাইকে করে তাদের নয়মাইল এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েকজন কিশোর তাদের একটি গুদামে নিয়ে গিয়ে শাটার বন্ধ করে দেয়। বের হওয়ার চেষ্টা করলে ভয় দেখানো হয় বলেও সে জানায়।
শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, তাদের কোমল পানীয় দেওয়া হয়েছিল। দুপুরে খাবার দেওয়ার কথা বলা হলেও পরে খাবার দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া বিভিন্নভাবে তাদের মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। এসব ছবি-ভিডিও বিদেশি কোনো অ্যাপে ব্যবহার করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৯০০ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী শুকুর আলীর বাবা শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এতে পাঁচ কিশোরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান বলেন, তদন্ত করে নয় শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে একটি গুদামে আটকে রাখার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, অভিযোগটি তদন্তাধীন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কয়েকজন কিশোর শিক্ষার্থীদের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে ছবি ধারণ করেছে। বিদেশি কোনো অ্যাপে যুক্ত করলে ৯০০ টাকা করে পাওয়া যাবে—এমন প্রলোভন দেখানোর কথাও তদন্তে উঠে এসেছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলাকালে শিক্ষার্থীরা কীভাবে বাইরে চলে গেল, সে প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।