মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৬:৫৮:৪০
কুলাউড়ায় হামের আতঙ্ক, হাসপাতালে ভর্তি ৮ শিশু
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্তত ৮ জন শিশু ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।
রোগীদের অভিভাবকরা জানান, হঠাৎ করেই শিশুদের জ্বর ও সর্দি দেখা দিচ্ছে। পরবর্তীতে শরীরজুড়ে ছোট ছোট লাল ফুসকুড়ি বা বিচি দেখা যাচ্ছে। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে হামের বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এক অভিভাবক বলেন, “আমার বাচ্চা সকালে একদম স্বাভাবিক ছিল। হঠাৎ করে জ্বর আসে, এরপর সর্দি শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই শরীরে লাল দানা দেখা দেয়। প্রথমে বুঝতে পারিনি, পরে অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতালে নিয়ে আসি। ডাক্তাররা জানান এটি হাম।”
পরিস্থিতি মোকাবেলায় কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ শয্যার একটি আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে। গত ৪ এপ্রিল এ ইউনিটের উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু।
তবে রোগীদের স্বজনদের দাবি, বর্তমান ১০ শয্যার আইসোলেশন ইউনিট প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ায় উদ্বেগও বাড়ছে।
এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামীম ফারহানা জেরিন জানান, সারাদেশেই হাম ছড়িয়ে পড়েছে। কুলাউড়ায় এখন পর্যন্ত ৮ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। গুরুতর রোগীদের আইসোলেশনে রাখা হচ্ছে, আর যাদের অবস্থা তুলনামূলক হালকা, তাদের বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, একজন গুরুতর রোগীকে ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
এদিকে, সারাদেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা মহামারির রূপ নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় শতাধিক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত বা সন্দেহজনক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে ৫ বছরের নিচের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, জ্বর, সর্দি ও শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখতে হবে এবং হামের টিকা নিশ্চিত করাই এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।