নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ০৭:৪১:০০
ফ্যামিলি কার্ড ১০ টাকার চাল দেওয়ার মতো ধাপ্পাবাজি: ডা. শফিকুর রহমান
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় পিরোজপুর সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ফ্যাসিস্ট হাসিনা একসময় ১০ টাকায় চাল দেওয়ার কথা বলেছিল। এখন আরেক দল ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলছে। এই ফ্যামিলি কার্ডও ১০ টাকার চাল দেওয়ার মতোই ধাপ্পাবাজি।”
তিনি আরও বলেন, “দেশে যেসব নারীরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাইছেন, একটি দল তাদের কাপড় খুলে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। অথচ ওই দলের নেতারা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, “হাদি, আবু সাঈদ, মুগ্ধরা উচ্চারণ করেছিল—এই দেশে আর কোনো বৈষম্য থাকবে না। সেই কারণেই তাদের হত্যা করা হয়েছে।”
তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, “এই হত্যার বদলা নিতে আপনাদের কাছে আমরা দুটি ভোট চাই—একটি ‘হ্যাঁ’ ভোট, আরেকটি ইনসাফের রাষ্ট্র গঠনের ভোট। ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে আজাদি, আর ‘না’ ভোট মানে গোলামি। আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো গোলাম হতে চাই না।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ইনসাফের রাষ্ট্র কায়েম করে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচারকারীদের মুখে হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা উদ্ধার করে দেশের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যারা ভোট চুরির চিন্তা করবে, তারা যত বড় শক্তিই হোক, আমরা তাদের ছেড়ে কথা বলবো না। এখন থেকেই সবাই পাহারা দেবেন, যেন কেউ ভোট কিনতে বা চুরি করতে না পারে।”
বেকার ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না। আমরা বেকার যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেবো, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “যাত-পাত, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ কোনো বৈষম্য করা হবে না। যোগ্যতা অনুযায়ী সবাইকে কাজ দেওয়া হবে। যার কাজ যত ঝুঁকিপূর্ণ, তার মর্যাদাও তত বেশি হবে।”
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “নিরপরাধ শহীদ মাওলানা সাঈদীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার অপরাধ ছিল—তিনি কোরআনের বাণী প্রচার করতেন।” তিনি বলেন, “সাঈদী হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে আপনাদের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজদের কোনো প্রশ্রয় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইনসাফের সরকারের সুযোগ পেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা শাসক নয়, জনগণের সেবক হয়ে দেশ পরিচালনা করবো। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।”
তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ ১৩ ফেব্রুয়ারি হবে ইনসাফের বাংলাদেশের নতুন সূর্যোদয়। দেশ কোনো দলের নয়—দেশ ১৮ কোটি মানুষের।”
জনসভায় পিরোজপুরের তিনটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের পক্ষে ভোট চান ডা. শফিকুর রহমান।
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসেন ফরিদের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, পিরোজপুর-১ আসনের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী, পিরোজপুর-২ আসনের প্রার্থী শামীম সাঈদী এবং পিরোজপুর-৩ আসনের এনসিপি প্রার্থী ড. শামীম হামিদীসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নারী-পুরুষ ব্যানার, ফেস্টুন ও বড় আকারের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মিছিল সহকারে জনসভাস্থলে জড়ো হন। দুপুরের মধ্যেই সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। “ন্যায়ের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন”—এই স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।