জাহাঙ্গীর আলম, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৯ জুন ২০২৬ দুপুর ০১:৩৩:১২
পাসপোর্ট করতে এসে নেত্রকোনায় রোহিঙ্গা আটক
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মোঃ কারিম নামের এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করেছে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ। সোমবার (৮ জুন) রাত ১০টার দিকে নেত্রকোনা পৌর শহরের বড়বাজার এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায় আটককৃত কারিমের কাছ থেকে সৌদি আরবের একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং চট্টগ্রাম থেকে নেত্রকোনা আসার একটি বাসের টিকিট উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায় গত শনিবার (৬ জুন) চট্টগ্রাম থেকে সোনার তরী পরিবহনের একটি বাসে নেত্রকোনায় আসেন কারিম। তিনি শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছিলেন। সোমবার রাতে বড়বাজার এলাকায় তার চলাফেরা ও কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে আটক করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে ভুয়া পরিবার ও ঠিকানা ব্যবহার করে বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন এবং পাসপোর্ট তৈরির উদ্দেশ্যে তিনি নেত্রকোনায় এসেছিলেন। পরবর্তীতে ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট দালাল চক্রের কোনো নাম-ঠিকানা এখনো পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, কারিম দাবি করেন, তার কোনো বৈধ পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নেই। তার মা রোকিয়া সৌদি আরবে মারা গেছেন এবং বাবার নাম রফি। তিনি জানান, নিজের শিকড় ও আত্মীয়-স্বজনদের খুঁজে বের করার আশায় বাংলাদেশে এসেছেন।
আটক মোঃ কারিম জানান আমার নিজের কোনো বৈধ পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নেই। আমার মা রোকিয়া, তিনি সৌদি আরবে মারা গেছেন। বাবার নাম রফি। মা চট্টগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন বলে জানি। তবে আমার খালাদের নাম বা আত্মীয়-স্বজনদের সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।পরিবারকে খুঁজে বের করার আশায় আমি বাংলাদেশে এসেছি। নেত্রকোনায় এসেছি শুধুমাত্র আমার আত্মীয়-স্বজনদের সন্ধান করতে। আমি একাই এসেছি, আমার সঙ্গে আর কেউ নেই। চট্টগ্রাম কক্সবাজার, চকরিয়া ও বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ করেছি, কিন্তু এখনো পরিবারের কাউকে খুঁজে পাইনি। আমি কাজ করে কিছু টাকা জমাই এবং সেই টাকায় নিজের শিকড় খোঁজার চেষ্টা করছি। আমাকে বলা হয়েছে, যদি আমি আমার পরিবারের কোনো ঠিকানা বা পরিচয় খুঁজে বের করতে পারি, তাহলে জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পরবর্তীতে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। আমার কোনো দেশের পাসপোর্ট নেই। সৌদি আরবে আমাকে বার্মিজ (মিয়ানমারের নাগরিক) হিসেবে অস্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি কখনো মিয়ানমারে যাইনি, দেশটিকেও চিনি না। আমার প্রকৃত পরিচয় ও শিকড় সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন আমার বাবা। আমি শুধু আমার পরিবারকে খুঁজে পেতে চাই। যদি কেউ আমার আত্মীয়-স্বজনদের সন্ধান দিতে পারেন, তাহলে আমি তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকব। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশা হলো নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়া এবং বৈধভাবে আবার পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন সরকার বলেন, “তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ধারণা করছি, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক নন এবং রোহিঙ্গা হতে পারেন। বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আটক যুবকের পরিচয় ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”