ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬ রাত ০৭:১৯:০৫
উদ্বৃত্ত টাকা ফেরত দিয়ে প্রশংসায় ডুমুরিয়ার ইউএনও: সাশ্রয় ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় জোড়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পে দৃষ্টান্তমূলক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নজির গড়েছেন উপজেলা প্রশাসন। অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে সাশ্রয়কৃত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়,উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর নিমতলা থেকে বিল ডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা দক্ষিণ পার্শ্ব (আশি ফুট পর্যন্ত) এবং সাহস ইউনিয়নের ডোলভাঙ্গা খাল থেকে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানে হয়ে তেলিখালি গেট অভিমুখে ভদ্রা নদী পর্যন্ত খাল দু’টি পুনঃখননের কাজ হাতে নেওয়া হয়। এ কাজের জন্য সরকার মোট ৩ কোটি ৯ লাখ ৬ হাজার ৭৬৯ টাকা বরাদ্দ প্রদান করে। খননকাজের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খালের দুই পাড়ে প্রায় ৫ হাজার ফলজ ও ওষুধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আরিফ হোসেন জানান, জেলা ও উপজেলা তদারকি কমিটির নিবিড় পর্যবেক্ষণে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়। শ্রমিকদের মজুরি, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও পরিবহন খরচ পরিশোধের পর ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা উদ্বৃত্ত থাকে, যা আর্থিক বিধিমালা মেনে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে অতিবৃষ্টি ও মাটির প্রাকৃতিক জটিলতার কারণে রঘুনাথপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর নিমতলা খালের ৭ কিলোমিটারের মধ্যে ৫.১ কিলোমিটার অংশ নির্ধারিত সময়ে খনন করা সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী,গণমাধ্যম কর্মি ও সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতায় প্রকল্পটি সফলভাবে শেষ হয়েছে। খাল দু’টি পুনঃখননের ফলে ওই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ প্রসঙ্গে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার বলেন, সরকারি প্রকল্পের প্রতিটি টাকা জনগণের আমানত। অর্থের সঠিক ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। নিয়মানুযায়ী যতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে কেবল ততটুকুর বিল পরিশোধ করে অবশিষ্ট টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।