মো: আলমগীর হোসেন, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ১২:২৬:০০
নবীনগরে প্রকৌশলীকে বাঁশ দিয়ে পিটালেন ঠিকাদার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সড়ক নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগে কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে বাঁশ দিয়ে পিটানোর অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার শিবপুরে ওস্তাদ আফতাব উদ্দিন খাঁ মাজার সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বাঁশ হাতে প্রকৌশলীকে তাড়া করা ও পিটানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, মেরকুটা বাজার থেকে শিবপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক উন্নয়নের কাজ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছে। এরই প্রেক্ষিতে পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়ম দেখতে পেয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মির্জা মো. তরিকুল ইসলাম কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন।
রাজশাহীর বরেন্দ্র কন্সট্রাকশন লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠান কাগজে-কলমে কাজ পেলেও মাঠের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি লোকমান হোসেনের হাতে। তিনি সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত, আর সেই প্রভাবকে পুঁজি করেই বছরের পর বছর ধরে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী ঠিকাদারি বলয়।
অভিযোগ রয়েছে, তার ‘মেসার্স লোকমান হোসেন’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নবীনগরের প্রায় ৭০ শতাংশ উন্নয়ন কাজ নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যেখানে কাজের মান নয়, প্রভাবই নির্ধারণ করে সবকিছু। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, উপসহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বিল আটকে দিলে ক্ষোভ জমতে থাকে, আর সেই ক্ষোভই একসময় বিস্ফোরিত হয়ে রূপ নেয় প্রকাশ্য হামলায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঠিকাদার লোকমান হোসেনের সঙ্গে প্রকৌশলীর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ঠিকাদারের ব্যক্তিগত গাড়িচালক বিল্লাল বাঁশ নিয়ে তরিকুল ইসলামের ওপর হামলা করেন। প্রাণ বাঁচাতে প্রকৌশলীকে দৌড়ে পালাতে দেখা যায়। ঘটনাটি পাশেই থাকা এক ব্যক্তি ভিডিও করেন।
ভুক্তভোগী উপ-সহকারী প্রকৌশলী মির্জা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “জনস্বার্থে ও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিম্নমানের কাজ বন্ধ করতে বলায় ঠিকাদারের ড্রাইভার আমার ওপর বাঁশ নিয়ে হামলা করে এবং আমাকে তাড়া করে। আমি এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে ঠিকাদার ও তার চালকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছি।”
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার লোকমান হোসেন বলেন, “কাজের ২ শতাংশ ঘুষ দাবি করেছিলেন ওই প্রকৌশলী। এ নিয়ে তর্কাতর্কির সময় আমার ড্রাইভার উত্তেজিত হয়ে তাকে লাঠি দিয়ে ধাওয়া করে। পরে বিষয়টি ওনার সামনেই মীমাংসা করে দিয়েছি।”
উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফেরদৌস আলম বলেন, দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রকৌশলীর ওপর এমন হামলা নজিরবিহীন। ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় অভিযোগ দিয়েছি।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।