নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৬:০৫:০৮
বন্ধ হলো দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার
জ্বালানি তেল উৎপাদনের কাঁচামাল অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)।
পর্যাপ্ত ক্রুড অয়েল মজুত না থাকায় মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর থেকে তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি ইউনিটের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে দেশে জ্বালানি তেল সংকটের শঙ্কা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় চলতি মাসের শুরু থেকেই ক্রুড অয়েলের সংকটে ভুগছিল পতেঙ্গার এই শোধনাগারটি। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ৫ এপ্রিল থেকে বিকল্প ব্যবস্থায় উৎপাদন চালু রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার দুপুরের পর পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল উৎপাদনকারী ১ ও ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম এ বিষয়ে বলেন, ‘অপরিশোধিত তেলের অভাবে ইস্টার্ন রিফাইনারি আজ থেকে বন্ধ হয়েছে। পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন, কেরোসিন ইত্যাদি তৈরি হয়, ওই ইউনিটটা এখন বন্ধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু বিটুমিন প্রোডাকশনটা চালু আছে। দেশের চাহিদা হচ্ছে অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল এই জিনিসগুলা। এই প্রোডাক্টগুলার যে শর্টেজ হবে, এটার কারণে বাড়তি ফিনিশড প্রোডাক্ট বিপিসি বাইর থেকে ফিনিশড প্রোডাক্ট হিসেবে এনে এটা মেকআপ দেয়ার চেষ্টা করতেছে।’
জানা গেছে, বর্তমানে শোধনাগারটির ৩ নম্বর ইউনিটে বিটুমিন উৎপাদনের পাশাপাশি নামমাত্র পরিমাণে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদিত হচ্ছে, যা দেশের চাহিদার তুলনায় নগণ্য। ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার টন অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলসহ মোট ১৩ ধরনের জ্বালানি পরিশোধন করা হয়। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ জোগান দেয় এই প্রতিষ্ঠানটি।
সংকটের কারণ হিসেবে জানা গেছে, সৌদি আরব থেকে ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে নতুন একটি চালান আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১৮ এপ্রিল সৌদি আরব থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে জাহাজে লোড হওয়ার কথা রয়েছে। জাহাজটি আগামী ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছালে পুনরায় পুরোদমে উৎপাদনে ফিরতে পারবে ইস্টার্ন রিফাইনারি।
ইস্টার্ন রিফাইনারির তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল মজুত রাখার ক্ষমতা দেড় লাখ টন এবং পরিশোধিত তেল রাখার ক্ষমতা আড়াই লাখ টন। বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকার বিকল্প দেশগুলো থেকে ক্রুড অয়েল আমদানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।