শামীম আহমেদ জয়
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬ রাত ০৭:০০:২৪
চ্যানেল এস টেলিভিশনে সংবাদ প্রকাশের পর এতিমখানাগুলো ফেরত পেল ১০-১২ হাজার করে টাকা
এস টেলিভিশনে এতিমের জন্য বরাদ্দ অর্ধেক চাল উধাও শিরোনামে নিউজ প্রকাশের পর নড়ে চড়ে বসেছে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। সরকারি বরাদ্দের ১ টন করে চাল পাওয়া উপজেলার ৪৬ এতিমখানায় ১৬ ও ১৭ জুলাই দায় স্বীকার ও ক্ষমা চেয়ে ১০-১২ হাজার করে টাকা পৌঁছে দিলেন উপজেলা যুবদল নেতা মনির হোসেন মোল্লা। বেশ ক'টি এতিমখানা কর্তৃপক্ষের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তারা সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে কয়েকটি এতিমখানায় গিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে ভিডিও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তারা জানান, তাদের কাউকে (এতিমখানায়) দিয়েছিল ১৫ হাজার কাউকে দিয়েছিল ১৭ হাজার টাকা। কোন এতিমখানায় ১ হাজার কেজি (১ টন) চালের বিপরীতে দিয়েছে ৫শ কেজি কোথাও দিয়েছে ৬শ কেজি চাল। অর্থাৎ, যাকে যা দিয়ে বিদায় করতে পেরেছে তাই করেছে। কিন্তু সাংবাদিকদের সহযোগীতায় ১-২ দিনের মধ্যেই যুবদল নেতা মনির হোসেন মোল্লা দায় স্বীকার ও ক্ষমা চেয়ে আরো ১০-১২ হাজার করে টাকা পৌঁছে দিতে বাধ্য হয়েছে এর কারণে তারা সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এতিমদের চাল নিয়ে যেন আর কোন রকমের ছিনিমিনি খেলা না হয় সেজন্য তারা স্থানীয় সাংসদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এবিষয়ে উপজেলার সাড়ে পাঁচানী হোসাইনীয়া এতিমখানার সভাপতি ও উপজেলা বিএনপি'র সাবেক সহ-সভাপতি নুরুল আমীন মাষ্টার জানান, তিনি ক্ষমতাসীন দলের এতো বড় পদে ছিলেন তার পরেও এ বিষয়টি যারা নিয়ন্ত্রণ করছেন তাদেরকে এতিমদের দোহাই দিয়ে বিভিন্ন অনুরোধ করলেও কোন সুফল পাননি। কিন্তু সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেই ক্ষমতাধররা এতিমখানায় গিয়ে আরো ১০-১২ হাজার টাকা পৌঁছে দেওয়ার কারণে সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান।
কলাকান্দা ইউনিয়নের সাতানী নেদায়ে ইসলাম আশেকী মানঞ্জুর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বাহাউদ্দিন জানায়, আমার এতিমখানার এতিমদের জন্য এ মাসের প্রথম সপ্তাহে সরকারি বরাদ্দ ১ টন চালের পরিবর্তে আমাকে দিয়েছিল ১৫ টাকা। আর কিছু দিবেনা জানালেও গতকাল আমাকে আরো ১৫ হাজার টাকা দিয়েছে। যাদের হস্তক্ষেপে আরো ১৫ হাজার টাকা পেলাম তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা। এই টাকায় এতিমদের অনেক উপকার হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতা মনির হোসেন মোল্লার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে গত দু'দিনে উপজেলার ২০এর অধিক এতিমখানায় গিয়ে দায় স্বীকার ও ক্ষমা চেয়ে টাকা দিয়ে আসার ভিডিও আমাদের কাছে থাকলেও তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না ।
এতিমখানায় চাল বিতরন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)'র সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি এতিমদের চাল আত্মসাৎ, গত ২ দিনে এতিমখানায় গিয়ে কিছু টাকা ফেরত দেওয়া ও প্রকল্প বরাদ্দের মাস্টার রুল বাহিরের লোকের কাছে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এসব বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান।
বিষয়টি নিয়ে কথা হলে এতিমদের এই চাল বিতরণ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও চাল বিতরণ কমিটির মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হচ্ছে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না হবে।