কোনাবাড়ী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৫:৪৪:২১
আলোচিত নুসরাত হত্যা, ৭ বছর পর মায়ের সাথে মুক্তি পেলেন মোবাশ্বেরা খানম রাথী
ফেনীর সোনাগাজীতে আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মায়ের সাথে সাত বছর কারাবন্দী জীবন কাটিয়ে আজ দুপুরে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারগার থেকে মা-মেয়েসহ মুক্তিপান আট জন। মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত সাজা থেকে মুক্তি পেয়ে উচ্ছ্বসিত স্বজনরা।
পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ২০১৯ সালে নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হন কামরুন্নাহার মনি। কারাগারেই মোবাশ্বেরা খানম রাথী নামে কন্যা সন্তান জন্মদেন তিনি। মায়ের পেটে থেকেই কারাবন্দী জীবন শুরু তার। দীর্ঘ সাত বছর পর কারাগার থেকে মুক্তি মিলেছে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত মা-মেয়েসহ আট জনের।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টা ৪৫ মিনিট থেকে পর্যায়ক্রমে মুক্তি পান তারা। বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার মোঃ জাকির হোসেন। তিনি বলেন,জামিনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাদেরকে পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেওয়া হয়।
মুক্তি প্রাপ্ত অন্যরা হলেন,মো: শামীম,হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল,আফসার উদ্দিন,ইমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার উদ্দিন রানা,আব্দুর রহিম শরীফ।
সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত কামরুন্নাহার মনি বলেন,আমার বাচ্চাকে ক্লাস টু এর বই পাড়াচ্ছি। কুরআন রেডিং পড়ানো শিখাইছি। আমার মেয়েকে কোরআনের শেষের এক পাড়া মুখস্থ করাইছি। মা হিসেবে আমার দায়িত্ব কারাগারের ভেতর থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। এসময় কামরুন্নাহার মনি বলেন,পায়ের মুজা দিয়ে মেয়েকে পুতল বানিয়ে দিয়েছি। কারণ কোন কিছু দেওয়ার সামর্থ আমার ছিলোন। সেই পুতুল দিয়ে মেয়ে খেলা করতো। জামা কেটে স্কুল ব্যাগ বানিয়ে দিয়েছি। সেই ব্যাগ নিয়ে সে
স্কুলে যেতো। এসময় তিনি বলেন, একজন সন্তান মা ছাড়া কখনই ভালো থাকতে পারেনা। তার এসব কথা শুনে উপস্থিত আত্মীয় স্বজন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
ইফতেখার এর মা হাজেরা বেগম বলেন,আমার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে ছিলো। আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া আমার ছেলেকে বুকে ফিরে পেয়েছি। এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকেও ধন্যবাদ
জান।
সকাল থেকে ফুল হাতে কারাগারের সামনে মুক্তিপ্রাপ্তদের অপেক্ষায় স্বজনরা। বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস পরিবারের চোঁখে মুখে। পরে তারা পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে দেখা করে ফেনীর উদ্দেশ্যে রওনা হন বলে পরিবার সূত্রে জানাযায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নুসরাত হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে ১০ জনকে খালাস এবং চারজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। অপর দুই আসামি সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে।