মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার থেকে
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৩:০১:৫১
নাজিরাবাদ ইউনিয়নের উত্তর আটঘর এলাকায় ফিল্ম স্টাইলে মাদক সেবন: প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে ক্ষোভ
মৌলভীবাজার জেলার ১০ নম্বর নাজিরাবাদ ইউনিয়নের উত্তর আটঘর এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবনের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, উত্তর আটঘর ও আশপাশের এলাকায় কিছু ব্যক্তি নিয়মিতভাবে প্রকাশ্যে মাদক সেবন করে আসছে। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসার পরও তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। প্রকাশ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকায় এলাকার তরুণ সমাজের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে, যারা নিয়মিতভাবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত তাদের মধ্যে রয়েছেন— আফিক (পিতা: আজাদ কারী, জাকানদি), রিকান (পিতা: আলতা, দুঘর), বাবুল (পিতা: কনাই, কুনাগাঁও), নুনু মিয়া (পিতা: আব্দুল মুতলিব, উত্তর আটঘর), কলিমউদ্দিন টিপু (পিতা: নুর উদ্দিন আহমদ, উদারাই), কামাল (পিতা: গনি, উদারাই), সেলিম (পিতা: মামমদ, উদারাই), সুয়েব (পিতা: রুপ, উদারাই) এবং সিতার (পিতা: শরিফ, উদারাই)।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায়ই এসব ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে মাদক সেবন করতে দেখা যায়। কখনো কখনো তারা বিভিন্ন স্থানে জটলা করে বসে মাদক গ্রহণ করে, যা এলাকার পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে উঠছে। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং তরুণ প্রজন্ম ধীরে ধীরে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত অভিযান চালিয়ে মাদক সেবন ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মৌলভীবাজার ১০ নং নাজিরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন আহমদ বলেন, এসব কর্মকান্ডের জন্য আসলে বিট পুলিশের অবহেলা। আমার সতে বিট পুলিশ ৪ মাস অন্তর পরিবর্তন করলে আইশৃঙ্খলা পরিস্থতি উন্নতি হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী আশা করছেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।