মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১১:০১:০৬
ঐতিহ্যবাহী ছয়চিরি দিঘীর পাড়ে প্রায় ২০০ বছরের চড়ক পূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ছয়চিরি দিঘীর পাড়ে প্রায় দুই শত বছরের প্রাচীন চড়ক পূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) শুরু হওয়া এ উৎসবকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল তান্ত্রিক রীতিনীতিভিত্তিক নানা আচার-অনুষ্ঠান। দীর্ঘ ১০-১২ দিন ব্রত পালন শেষে প্রায় ৪০-৫০ জন সন্ন্যাসী এদিন কৃচ্ছ্রসাধনের সমাপ্তি ঘটান। চড়ক গাছে ভক্তদের ঘোরানো, জ্বলন্ত আগুনের ওপর ‘কালীনাচ’ এবং ধারালো দায়ের ওপর ‘শিব শয্যা’—এ ধরনের রোমাঞ্চকর আচার উপস্থিত হাজারো দর্শনার্থীকে বিমোহিত করে।
দিঘীর উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ পাড়ে স্থাপিত চারটি চড়ক গাছে সন্ন্যাসীদের পিঠে বড়শি গেঁথে ঘোরানোর দৃশ্য দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ভক্তরা ফুল, দুধ ও চিনি দিয়ে ভক্তিভরে পূজা নিবেদন করেন।
পূজাকে ঘিরে দিঘীর চারপাশে বসেছে জমজমাট গ্রামীণ মেলা। নাগরদোলা, মাটির তৈজসপত্র, বাঁশ-বেতের তৈরি সামগ্রী এবং খৈ-বাতাসার দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় ছিল।
চড়ক পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অনিরুদ্ধ প্রসাদ রায় চৌধুরী বলেন, “এই উৎসব এখন আর শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়; এটি সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”
উৎসবকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের কড়া নজরদারি ছিল। মেলা প্রাঙ্গণে পুলিশ, র্যাব ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করে। পাশাপাশি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মেলা পরিদর্শন করে পূজারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
উল্লেখ্য, ১৫ এপ্রিল সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটবে। একইসঙ্গে কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা চা বাগান এলাকাতেও চড়ক পূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।