সীমান্তে পতাকা বৈঠক
পীরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১১:৩২:২৫
পীরগঞ্জে ৪০ ঘণ্টা পর বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তর বিএসএফের
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে চান্দেরহাট সীমান্তে পতাকা বৈঠকে মাধ্যমে ৪০ ঘণ্টা পর বাংলাদেশি যুবক আসাদুল হকের লাশ হস্তান্তর করেছে বিএসএফ।
রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শেষ বিকেলে চান্দেরহাট সীমান্তে এলাকায় ৩৩৪ টু এস পিলারের বুড়া দিঘির পাড়ে এই পতাকা বৈঠক শেষে রাত ৯ টার দিকে দানাজপুর বিওপি'র সীমান্ত দিয়ে নিহত আসাদুলে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চান্দেরহাট সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের গুলিতে আসাদুল হক (৩৮) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হন। এ ঘটনায় মোস্তাকিম (৩২) ও উধা চন্দ্র রায় (৩৪) নামে আরও দুই বাংলাদেশি যুবক বিএসএফের হাতে আটক হয়েছে। এছাড়া একই ঘটনায় আইয়ুব আলী নামে একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
নিহত আসাদুল হক দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জনক। তার আয়–রোজগার দিয়েই সংসার চলত পরিবারটির।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার আইয়ুব আলী নেতৃত্বে ৫ জন ভারতের তারকাটা কেটে প্রবেশের চেষ্টা করে।
এ সময় ভারতের কালিয়াগঞ্জের চকসিবানন্দ ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে আসাদুল গুলিবিদ্ধ এবং মোস্তাকিম ও উধা চন্দ্র রায় আহত হয়। আসাদুল, মোস্তাকিম ও উধা চন্দ্র রায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী–বিএসএফের নিয়ন্ত্রণে গেলেও আইয়ুব আলী এ সময় নিখোঁজ হন।
গত শনিবার ভোরে পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ৩৩৩ নম্বর মেইন পিলারের কাছে এ ঘটনা হয়। নিহত আসাদুল হক ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদের আলীর ছেলে। আর আটক একই এলাকার ওয়াহেদ আলীর ছেলে মোস্তাকিম ও মুনষা নারায়ণের ছেলে উধা চন্দ্র রায়। নিখোঁজ আইয়ুব আলী একই এলাকার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত পিলার ৩৩৩ এমপি দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ৬৩ চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের টহলদল গুলি চালায়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ভারতের কালিয়াগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।
স্থানীয় বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহাজাহান আলী বলেন, ‘বিএসএফের গুলিতে নিহত ও আহতরা আমার এলাকার ছেলে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আমরা মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছি। এছাড়াও আহত দুজনকে রায়গঞ্জ থালা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করে বিএসএফ।