নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬ রাত ০৮:২৯:২৫
অননুমোদিত ৩১ ঋণ অ্যাপ নিয়ে সতর্ক করল বিএফআইইউ
সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রম থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার নামে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে ঋণ আদায়ের সময় হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
বিএফআইইউ জানিয়েছে, বাংলাদেশে ঋণ প্রদান একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন, বিধিবিধান ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুসরণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা বৈধ নয়। মোবাইল অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার জন্য এসব অননুমোদিত মাধ্যমকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
সংস্থাটি বলেছে, অননুমোদিত ঋণ অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত যোগাযোগের তালিকা, ছবি ও অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে ঋণের অর্থ আদায়ের নামে গ্রাহকদের ওপর অযাচিত চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। এতে ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, অননুমোদিত আর্থিক লেনদেন, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানির ঝুঁকি বাড়ছে।
বিএফআইইউর মতে, এ ধরনের অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রম প্রতারণা, আর্থিক অপরাধ এবং অর্থপাচারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী প্রতারণামূলকভাবে ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ অর্থপাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য।
এ অবস্থায় অপরিচিত কোনো মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিএফআইইউ। ঋণের প্রলোভনে কোনো অপরিচিত অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত তথ্য, পরিচয়পত্রের তথ্য, ব্যাংক হিসাবের তথ্য কিংবা মোবাইল ফোনে থাকা সংবেদনশীল তথ্য না দেওয়ার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঋণ দেওয়ার আগে অগ্রিম অর্থ, নিবন্ধন ফি, প্রসেসিং ফি বা অন্য কোনো অর্থ দাবি করা হলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। বিএফআইইউর নজরে এখন পর্যন্ত ৩১টি অননুমোদিত মোবাইল অ্যাপের তথ্য এসেছে। এসব অ্যাপের মধ্যে রয়েছে—সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈয্য লোন, ফিন ডট ডু, টাকা ক্যাশ লোন, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও অ্যাপ।
বিএফআইইউ জানিয়েছে, অননুমোদিত কোনো প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ নিয়ে প্রতারণার শিকার হলে বা এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোনো অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ, ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য থাকলে তা সংস্থাটিকে জানাতে হবে। সংশ্লিষ্টদের এসব অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।