নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৫ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৫:৪২:২৫
যৌক্তিক মূল্যে নিত্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিতে সরকার সক্রিয়: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী
যৌক্তিক মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর।
রোববার (০৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রীর লিখিত উত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ১৯৫৬ সালের ‘দ্য কন্ট্রোল অব এসেনশিয়াল কমোডিটিজ অ্যাক্ট’ আধুনিকায়নের উদ্যোগ। আইনটিকে সময়োপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ভোজ্যতেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ পণ্যের মূল্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারণ করা হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তা সমন্বয় করা হচ্ছে। চলতি বছরে ইতোমধ্যে তিন দফা মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এছাড়া গত বছর অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পেঁয়াজের বাজার নিয়ে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, কিছু সময় মূল্য অস্থিরতা দেখা দিলেও কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আমদানি উন্মুক্ত করার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মডেল পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের উপযোগী একটি কাঠামো নির্ধারণে গবেষণা চালাচ্ছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে শুল্ক নীতির কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, চিনি, ভোজ্যতেল ও খেজুর আমদানিতে শুল্ক হ্রাস করায় এসব পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
বাজার তদারকির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ঢাকায় প্রতিদিন একাধিক বাজার অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। অনিয়ম পেলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করার পাশাপাশি জরিমানাও করা হচ্ছে। বিশেষ করে রমজানসহ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসব অভিযানের পরিধি বাড়ানো হয়।
তিনি আরও বলেন, উৎপাদক, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ে আকস্মিক বাজার পরিদর্শন এবং চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জসহ বড় পাইকারি বাজারে সরেজমিন তদারকি করা হয়েছে।
এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, আমদানিকারকদের ব্যাংকিং জটিলতা নিরসন এবং সরবরাহ চেইন সচল রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে আড়ৎ, গুদাম, কোল্ড স্টোরেজসহ সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। এর মাধ্যমে উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে দামের ব্যবধান কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে টিসিবির মাধ্যমে প্রায় এক কোটি পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে চাল, সয়াবিন তেল, চিনি ও মশুর ডাল সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত হচ্ছে।
এছাড়া সিলেটে পরীক্ষামূলকভাবে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহ করে কৃষি মার্কেট চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগ সফল হলে তা পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।