নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ জুন ২০২৬ দুপুর ১২:৫০:৩০
বিএসইসির চেয়ারম্যানসহ চার কমিশনারের পদত্যাগ
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ সরকারের নির্দেশ ও জনরোষের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। একই সঙ্গে সংস্থার অপর চার কমিশনারও পদত্যাগ করেছেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের এই বিদায়ের খবরে সাধারণ বিনিয়োগকারীসহ পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।
৪ জুন বৃহস্পতিবার তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট চার বছরের জন্য বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। তবে নিয়োগের কয়েক মাসের মধ্যেই শেয়ারবাজারের পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে যায়। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আশা ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই তাকে পরিবর্তন করা হবে, কিন্তু তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টার নিকটাত্মীয় হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় এলেও গত তিন মাসে তাঁকে সরানো সম্ভব হয়নি। অবশেষে বিলম্ব হলেও বর্তমান সরকার তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করল।
খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পাশাপাশি পদত্যাগ করা অপর চার কমিশনার হলেন মু. মোহসীন চৌধুরী (নিয়োগ: ২ জুন ২০২৪), মো. আলী আকবর (নিয়োগ: ২৮ আগস্ট ২০২৪), ফারজানা লালারুখ (নিয়োগ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪) এবং মো. সাইফুদ্দিন (নিয়োগ: ২৯ জুলাই ২০২৫)।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা দিয়েছিলেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিএসইসি পুনর্গঠন করা হবে। মন্ত্রীর এই ঘোষণার পরদিনই আজ পুরো কমিশন পদত্যাগ করল।
উল্লেখ্য, চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতিসহ আন্দোলন করে আসছিলেন। অন্যদিকে, সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ- এই কমিশন শেয়ারবাজার নিয়ে একাধিক কালো আইন প্রণয়ন এবং নানাবিধ হয়রানির মাধ্যমে বাজারকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে গেছে। বিনিয়োগকারীরা এই বিদায়ী কমিশনের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিচার বিভাগীয় তদন্তও দাবি করেছেন। নতুন কমিশনের হাত ধরে শেয়ারবাজারে আবার বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।