নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬ রাত ০৬:০২:৪২
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বাজেটের ৪০ হাজার কোটি টাকা চলে গেছে: অর্থমন্ত্রী
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের বিশাল অঙ্কের প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ইতিমধ্যে বাজেট থেকে চলে গেছে। যা টাকার অঙ্কে প্রায় ৪০ হাজার কোটি।’
বিগত সরকারের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার অর্থনীতিকে ঋণাত্মক অবস্থা থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে। আমরা বিগত সরকারগুলোর কাছ থেকে যা পেয়েছি, সেটা মাইনাস, মাইনাস, মাইনাস। এখানে যোগ (ধনাত্মক) কিছু নেই, সবগুলো ঋণাত্মক। অনেক বিল তারা পরিশোধ করে যায়নি। পাওয়ার সেক্টর, এনার্জি সেক্টরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে। এখন সেগুলোও পরিশোধ করতে হচ্ছে।’
শনিবার চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি এস এম মোরশেদ হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অসীম বড়ুয়া, হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি আবদুল মান্নান রানা ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আজাদ।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা হতদরিদ্র, যাঁদের চিকিৎসা করাতে অসুবিধা হচ্ছে, তাঁদের চিকিৎসার জন্য আমরা প্রাইভেট হসপিটালের সঙ্গে অ্যারেঞ্জমেন্টে যাচ্ছি। যেহেতু সরকারি হাসপাতালগুলোতে সীমাবদ্ধতা আছে, সে জন্য আমরা প্রাইভেট হসপিটালগুলোর সঙ্গে কথা বলছি। আমরা তাদের কাছে রোগী পাঠাব। তারা চিকিৎসা করবে। বিলটা সরকার দিয়ে দেবে। সুতরাং যাঁরা হতদরিদ্র, তাঁদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।
আমির খসরু বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে এবারের বাজেটে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে। কারণ, সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে নাগরিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করতে চায়।’
আমির খসরু আরও বলেন, ‘আমরা যে ইউনিভার্সেল, প্রিভেন্টিভ, প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের কথা বলছি, এটি বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের নাগরিক অধিকার। এই অধিকার থেকে তারা এত দিন বঞ্চিত ছিল। পৃথিবীর প্রতিটি সভ্য দেশে সাধারণ মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকে। আমরা সেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই।’
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বর্তমানে কঠিন সময় অতিক্রম করছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবেও অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি হয়েছে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অর্থনৈতিকভাবে ভীষণ ঋণাত্মক অবস্থায় আছি। প্রথমে এখান থেকে বের হতে হবে। তারপর অর্থনীতি সামনের দিকে এগোবে।’
অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে আরও সময় লাগবে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয় লক্ষ করেছেন, আমি বলেছি দুই বছর সময় লাগবে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য।’