নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৬ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ০১:৫৩:৫৬
হরমুজ প্রণালি নিয়ে আইআরজিসির বার্তা
চলমান যুদ্ধের ফলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে অপরিবর্তনীয় কৌশলগত পরিবর্তন এসেছে। এটি আর কখনও আগের অবস্থায় ফিরবে না, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য।
রোববার (৫ এপ্রিল) রাতে এ ঘোষণা দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নেভি।
এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস টিভি। পারস্য উপসাগরে নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ইরানি বাহিনী তাদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করার প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা দিয়েছে।
অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নেভি কমান্ড জানায়, এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথের ওপর বিদেশি আধিপত্যের যুগ চিরতরে শেষ হয়েছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এমন এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বহিরাগত শক্তিগুলো ইরানের আর নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তাদের ঘোষিত ব্যাপক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আইআরজিসি নেভি তাদের অভিযানের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর লক্ষ্য হলো পারস্য উপসাগরে একটি নিজস্ব নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা, যা এই অঞ্চলের দেশগুলোই নিশ্চিত করবে।
এই প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে উন্নত নৌ-মোতায়েন, অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা এবং সমন্বিত দ্রুত-প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা। ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা বারবার সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা যদি এই নতুন ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করে, তবে তাদের কঠোর ও বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে।
ইরানে নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে দেওয়া হুমকির পর এই বিবৃতি এলো। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখে তবে তিনি দেশটিতে ‘নারকীয় তাণ্ডব’ চালাবেন। ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো ধ্বংস করে দেবেন। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, মঙ্গলবারই হবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে হামলার দিন।
এদিকে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা ১০ দিন স্থগিত রাখার ট্রাম্পের ঘোষণা আজ সোমবার শেষ হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরও জোরদার করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছে, বিশ্বের এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথটি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের জাহাজ ছাড়া সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এই বিধিনিষেধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি হামলা আরও বাড়ায়, তবে হরমুজ প্রণালির সীমা ছাড়িয়ে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোও নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি আকবর বেলায়েতি এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আকবর বেলায়েতি বলেন, হামলা বাড়ালে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটগুলো আর নিরাপদ থাকবে না। কোনো দেশের একটি ভুল পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা বাব আল-মান্দাব প্রণালি সুয়েজ খালের প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত। ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ইরানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে তারা এই জলপথে হামলা চালাতে প্রস্তুত। ইতোপূর্বে তারা এই পথে হামলা চালিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা সৃষ্টি করেছে।