নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬ দুপুর ০২:৫৯:৪২
ভারতে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র উত্থান: প্রধান বিচারপতির মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ। তার বক্তব্যের জের ধরে গড়ে উঠেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন রাজনৈতিক আন্দোলন, যা অল্প সময়েই লাখো তরুণের সমর্থন পেয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) সুপ্রিম কোর্টে এক শুনানিতে বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, কিছু তরুণ তেলাপোকার মতো, যারা চাকরি পায় না বা কোনো পেশায় জায়গা করতে পারে না। তারা কেউ মিডিয়ায় যায়, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অ্যাক্টিভিজমে যুক্ত হয়ে সিস্টেমের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করে। খবর আল জাজিরার।
পরে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তার মন্তব্য সব তরুণদের উদ্দেশে ছিল না। তবে বক্তব্যটি ভারতের তরুণ সমাজের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। বিশেষ করে বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি ও সামাজিক বিভাজনে ক্ষুব্ধ জেন-জি প্রজন্ম এটিকে অপমানজনক হিসেবে দেখছে।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক হওয়া ৩০ বছর বয়সী ভারতীয় তরুণ অভিজিৎ দীপক সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, সব তেলাপোকা যদি এক হয়ে যায়?- আর সেখান থেকেই শুরু হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।
তিনি পরে দলটির ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট চালু করেন। ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামের সঙ্গে মিল রেখে ব্যঙ্গাত্মকভাবে দলটির নাম রাখা হয়।
মাত্র তিন দিনে দলটির ইনস্টাগ্রাম অনুসারী সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। গুগল ফর্মের মাধ্যমে সদস্য হয়েছেন সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ। বিরোধী রাজনীতিকদের মধ্যেও এর প্রতি আগ্রহ দেখা গেছে।
দলটির ঘোষণাপত্রে সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে- বেকার, অলস, সারাক্ষণ অনলাইনে থাকা এবং পেশাদারভাবে অভিযোগ করতে পারা।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি হাস্যরসাত্মক উদ্যোগ নয়; বরং ভারতের তরুণ সমাজের হতাশা, ক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিকল্প খোঁজার প্রবণতার প্রতিফলন।
ভারতে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বর্তমানে প্রায় ২৯ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে।