নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১১:০৮:৪১
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ না খুললে ইরানে জাহান্নাম নেমে আসবে: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান যদি সোমবারের (৬ এপ্রিল) মধ্যে কোনো চুক্তিতে না আসে কিংবা হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তাহলে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ নেমে আসবে।
আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি ইরানকে ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম— চুক্তি করতে অথবা হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে। সময় ফুরিয়ে আসছে— আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি, এরপর তাদের ওপর জাহান্নাম নেমে আসবে।’
জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর পথটির ওপর নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরান।
দেশটির সামরিক বাহিনী বলেছে, প্রণালীটি তাদের নৌবাহিনীর ‘দৃঢ় ও কর্তৃত্বপূর্ণ’ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি ইরানের ‘শত্রুদের জন্য’ বন্ধই থাকবে। এর ফলে একদিকে যেমন উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস রফতানি হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে বিশ্বের বহু দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে নৌপথটির নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া ট্রাম্প ইরানকে এ ব্যাপারে একের পর এক ডেডলাইন দেন। গত ২১ মার্চ ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, ইরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দেয়, তবে তিনি দেশটির বড় বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থাপনা ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেবেন।
এরপর ২৩ মার্চ তিনি সুর কিছুটা নরম করে জানান যে, দুই দেশের মধ্যে ‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে তিনি জ্বালানি অবকাঠামোতে যেকোনো ধরণের সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দেন।
এরপর গত ২৭ মার্চ তিনি দাবি করেন, ইরানের অনুরোধেই তিনি তেহরানকে দেয়া সময়সীমা বাড়িয়েছিলেন— যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে। তবে ইরান এর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে ‘একপেশে ও অন্যায্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ট্রাম্প বলেন, ইরান প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা কিছুদিন বন্ধ রাখতে ৭ দিনের বিরতি চেয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই সময় বাড়িয়ে ১০ দিন করেন, যার শেষ সময় ৬ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়।
ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের কর্মকর্তারা তার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে আরও সময় চেয়েছিল। তার কথায়, ‘তারা খুব ভদ্রভাবে বলেছে, ‘আমরা কি একটু বেশি সময় পেতে পারি?’ কারণ সময়টা খুবই কম ছিল। যদি তারা প্রয়োজনীয় কাজ না করে, আমি তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা ৭ দিন চেয়েছিল, আমি ১০ দিন দিয়েছি, কারণ তারা আমাকে জাহাজ দিয়েছে।’ এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে ট্রাম্পের এই ডেডলাইনের কোনো পরোয়াই করছে না ইরান। হরমুজ প্রণালীর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ে পরোক্ষ হুমকি দিয়েছে দেশটি। বাব-এল-মানদেব প্রণালী, যা আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত, বিশ্বে কনটেইনার পরিবহনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ এক পোস্টে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ বিশ্ব বাণিজ্যে বাব এল-মান্দেব প্রণালীর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, ‘বিশ্বের কত শতাংশ তেল, এলএনজি, গম, চাল ও সার এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়?’ এই প্রশ্নের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে বড়সড় ইঙ্গিত - আন্তর্জাতিক ‘সাপ্লাই চেন’ কতটা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, তা বোঝাতেই এই মন্তব্য।