মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিবের ক্ষমার প্রভাব নিয়ে সতর্ক আনোয়ার
৫ কোটি রিঙ্গিত জরিমানা, শর্তসাপেক্ষ রাজকীয় ক্ষমা এবং কারাদণ্ডের পরিবর্তে গৃহবন্দিত্ব মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি নাজিব রাজাককে ঘিরে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ। তার জরিমানা পরিশোধে অর্থ সংগ্রহে নেমেছে ক্ষমতাসীন জোটের অন্যতম শরিক দল উম্নো। তহবিল চালুর একদিনেরও কম সময়ের মধ্যে জমা পড়েছে ১০ লাখ রিঙ্গিত। তবে নাজিব বলেছেন, তাকে সহায়তা করতে গিয়ে কেউ যেন আর্থিক চাপ বা বাধ্যবাধকতা অনুভব না করেন। উম্নোর উদ্যোগে গঠিত ‘নাজিব রাজাক সলিডারিটি ফান্ড’-এ গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ১০ লাখ রিঙ্গিত জমা পড়ে। প্রথম ঘণ্টায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৫ রিঙ্গিত এবং তিন ঘণ্টায় ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৫৬২ দশমিক ০২ রিঙ্গিত সংগ্রহ হয়। দলটির মহাসচিব দাতুক আসরাফ ওয়াজদি দুসুকি জানান, অনেকেই ১০ ও ৫০ রিঙ্গিত করে অনুদান দিয়েছেন।
নাজিবের আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে বলেন, তার প্রতি মানুষের সংহতি ও সহায়তার প্রস্তাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী গভীরভাবে স্পর্শিত। তবে তার কারণে দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক কিংবা সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের আর্থিক বোঝা বহন করতে হবেএমনটি তিনি চান না। কেউ সহায়তা করলে তা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী হওয়া উচিত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
তহবিল চালুর পর উম্নো সমর্থকদের আরও অনুদানের আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি ১০ রিঙ্গিত করেও অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আসরাফ ওয়াজদি। উম্নো সভাপতি দাতুক সেরি আহমাদ জাহিদ হামিদি জানিয়েছেন, দলীয় নেতা, সদস্য ও সমর্থকদের পাশাপাশি নাজিবকে সমর্থন জানাতে ইচ্ছুক যে কেউ স্বেচ্ছায় তহবিলে অর্থ দিতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে ও আইন মেনে পরিচালনার কথাও জানান তিনি।
তবে এ উদ্যোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাজিবের জরিমানা পরিশোধে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। একই অর্থ আর্থিক সংকটে থাকা মানুষের সহায়তায় ব্যবহার করা যায় কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে।
এরই মধ্যে নাজিবের শর্তসাপেক্ষ ক্ষমার বৃহত্তর প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেছেন, নাজিবের ক্ষমার আবেদন করার অধিকার রয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তের প্রভাব জনসাধারণের আস্থা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মালয়েশিয়ার ভাবমূর্তির ওপর কীভাবে পড়তে পারে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
আনোয়ার বলেন, নাজিবের জন্য শর্তসাপেক্ষ ক্ষমার পথ তিনি তৈরি করে দিয়েছেন এমন দাবি সঠিক নয়। প্রত্যেক বন্দির মতো নাজিবেরও ক্ষমার আবেদন করার অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার রক্ষার অবস্থান তিনি আগেও জানিয়েছেন।
শাহ আলমে আয়োজিত ‘হাই-টি রিইউনিয়ন পেরিন্তিস রিফর্মিস’ অনুষ্ঠানে আনোয়ার বলেন, নাজিবের আবেদন ক্ষমা বোর্ডের বিবেচনায় যাওয়ার অধিকার রাখে। ইয়াং দি-পারতুয়ান আগংয়ের সভাপতিত্বে গঠিত ক্ষমা বোর্ডই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাপ্রাপ্ত। প্রধানমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল এ বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন।
আনোয়ার আরও বলেন, নাজিবের আবেদন বিবেচনার সময় তিনি ক্ষমা বোর্ডকে তার চলমান মামলাগুলো, জরিমানার অস্বাভাবিক বড় অঙ্ক এবং সিদ্ধান্তটির কারণে বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে জনআস্থা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মালয়েশিয়ার ভাবমূর্তিতে সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়গুলো স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
গত শুক্রবার ফেডারেল টেরিটরিজ ক্ষমা বোর্ড নাজিবকে শর্তসাপেক্ষ রাজকীয় ক্ষমা দেয়। এর ফলে এসআরসি ইন্টারন্যাশনাল মামলায় তার অবশিষ্ট কারাদণ্ড গৃহবন্দি অবস্থায় কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ ব্যবস্থা ২৩ আগস্ট ২০২৮ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা। তবে এর সঙ্গে রয়েছে ৫ কোটি রিঙ্গিত জরিমানা পরিশোধসহ অন্যান্য শর্ত। অ্যাটর্নি জেনারেল তান সেরি মোহাম্মদ দুসুকি মোকতার জানিয়েছেন, শর্তসাপেক্ষ এ ক্ষমা কেবল এসআরসি ইন্টারন্যাশনাল মামলায় দেওয়া কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নাজিবের বিরুদ্ধে চলমান অন্যান্য মামলার ওপর এ ক্ষমার সরাসরি কোনো প্রভাব নেই।