নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ মে ২০২৬ সকাল ১১:১৮:৫৫
ভারতের ৫ রাজ্যের ভোট গণনা চলছে
পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, তামিলনাড়ু, কেরালা ও পুদুচেরির নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। তিনটি বিরোধী শাসিত রাজ্য দখলের লড়াই হওয়ায় এই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সবার চোখ রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। এখানে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসকে হটিয়ে রাজ্যের দখল নিতে এবার মরিয়া বিজেপি। বুথফেরত বেশির ভাগ জরিপও ইঙ্গিত দিয়েছে এখানে তৃণমূলকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাবে বিজেপি। কিন্তু পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছে আজ। এ ফল পুরোপুরি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না কে পাচ্ছে রাজ্যের চাবি। অনলাইন এনডিটিভি বলছে, সর্বশেষ প্রবণতা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে।
তবে এই ফল চূড়ান্ত নয়। যেহেতু ভোট গণনা চলছে, তাই মুহূর্তের মধ্যে পাল্টে যাচ্ছে ভোটের চিত্র। কখনো তৃণমূল এগিয়ে, কখনো বিজেপি। দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র টক্কর চলছে এই রাজ্যে আর তামিলনাড়ুতে দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগম (ডিএমকে) এগিয়ে। কেরালায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) প্রাথমিকভাবে এগিয়ে আছে। আসামে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে রয়েছে। পুদুচেরিতে মুখ্যমন্ত্রী এন রঙ্গাসামির অল ইন্ডিয়া এন আর কংগ্রেস (এআইএনআরসি) এগিয়ে।
বিজেপির জন্য পশ্চিমবঙ্গই মূল লক্ষ্য। সেখানে গত এক দশক ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই চলছে। নির্বাচন ইস্যুগুলোর মধ্যে ছিল দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ, সাংস্কৃতিক পরিচয় ইত্যাদি। বেশিরভাগ এক্সিট পোল বিজেপির জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে।
তামিলনাড়ুতে বিরোধী শাসিত রাজ্যে ডিএমকে-কংগ্রেস জোট টানা দ্বিতীয়বার জয় পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অভিনেতা বিজয়ের নতুন দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে) ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তামিলনাড়ুতে জয় কংগ্রেসের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারা বিভিন্ন রাজ্যে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সংগ্রাম করছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন আগেই জানিয়েছেন, সরকার গঠনে কংগ্রেসের বড় ভূমিকা নাও থাকতে পারে।
কংগ্রেস কেরালায় জয়ের আশা করছে, যেখানে গতবার পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বে বাম সরকার টানা দ্বিতীয়বার জিতেছিল।
কেরালার নির্বাচনকে বিজয়নের নেতৃত্বের ওপর গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে। বামফ্রন্ট হারলে ১৯৭৭ সালের পর প্রথমবারের মতো তারা সারা দেশে ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। ইতিমধ্যে তারা পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা হারিয়েছে।
আসামে বিজেপির সম্ভাব্য তৃতীয় মেয়াদ এবং মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দ্বিতীয় মেয়াদ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে আসল পরীক্ষা হলো, তারা এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় কিনা। ২০১৬ ও ২০২১ সালে বিজেপি অসম গণ পরিষদের সঙ্গে জোট করে জিতেছিল।
কংগ্রেস এবং রাজ্য সভাপতি গৌরব গগৈ-এর জন্য এটি বড় পরীক্ষা। নির্বাচনের আগে বিজেপি তার বিরুদ্ধে ‘আইএসআই সমর্থন’ অভিযোগ তোলে। আর কংগ্রেস পাল্টা হিমন্ত শর্মার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনে।
পুদুচেরিতে এন রঙ্গাসামির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) টানা দ্বিতীয়বার জয়ের আশা করছে। তবে বিজয়ের টিভিকে দল বহু আসনে ত্রিমুখী লড়াই তৈরি করে ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
আজ পাঁচটি রাজ্যের সাতটি উপনির্বাচনের গণনাও চলছে। সেগুলো হলো গুজরাটের উমরেথ, কর্ণাটকের বাগালকোট ও দাবানাগেরে সাউথ, মহারাষ্ট্রের রাহুরি ও বারামতি, নাগাল্যান্ডের কোরিডাং এবং ত্রিপুরার ধর্মনগর।