আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৯:৪৩:০৩
ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাতে ৬০ জনেরও বেশি নিহত
ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী এবং দেশটির হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেসামরিক নাগরিকসহ ৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। চিকিৎসা ও সামরিক সূত্রগুলোর উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর গত জুলাই মাসে পরিস্থিতির বেশ অবনতি হয়। এর রেশ ধরে গতকাল শুক্রবার মারাত্মক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে দুপক্ষের মধ্যে। ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমে লোহিত সাগরের একটি প্রবেশপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।
ইয়েমেনের তিনটি সামরিক সূত্রের মতে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমে কয়েক ঘণ্টার লড়াইয়ে সরকারি বাহিনীর ২৬ জন সৈন্য নিহত হয়েছে। অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত হুতিদের চিকিৎসা ও সামরিক সূত্র জানিয়েছে, তাদের ৩১ জন বিদ্রোহী যোদ্ধা নিহত হয়েছে।
সরকার নিয়ন্ত্রিত তায়েজ শহরের একটি চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, বাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ৭ জন আহত হয়েছে।
তায়েজ এবং এডেনে অবস্থিত ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের কার্যালয়ের মধ্যবর্তী স্থানে চলাচলকারী বাসে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছেন এক সরকারি কর্মকর্তা।
তায়েজে এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, আগের দিন হুতিরা শহরের কাছের কয়েকটি স্থান দখল করার পর আগামী কয়েক ঘণ্টায় পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তার একটি ধারা বোঝা যাবে।
ওই কর্মকর্তা আরও যোগ করেন, এডেন থেকে অতিরিক্ত সৈন্য আসতে শুরু করেছে। হুতিদের এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো কয়েক সপ্তাহ ধরে হামলার মুখে থাকা সরকার নিয়ন্ত্রিত বন্দর নগরী মোখা-কে বিচ্ছিন্ন করা এবং বাব আল-মানদাব প্রণালির সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর দিকে অগ্রসর হওয়া।
বিভিন্ন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে এএফপির তৈরি করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবারের লড়াইয়ে ১২৯ জন নিহত হয়েছে।
বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর, বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের তেল পরিবহনের পথ হিসেবে বাব আল-মানদাব প্রণালিটি সম্প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শনিবার এএফপি-কে এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, এডেন সরকারের প্রধান সমর্থক সৌদি আরব তিনটি বিমান হামলা চালিয়েছে, যা তায়েজে হুতিদের সম্প্রতি দখল করা অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছিল।
গত জুলাইয়ে রাজধানী সানায় হুতি বিদ্রোহীরা ইরানের একটি বিমানকে স্বাগত জানানোর পর হুতি এবং ইয়েমেন সরকারের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে এবং একাধিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।
ইরান-সমর্থিত হুতি এবং মার্কিন মিত্র সৌদি আরবের সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যকার এই লড়াই গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত যুদ্ধের এক নতুন রূপ তুলে ধরছে।
হুতিরা ইতোমধ্যেই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে এবং দেশটির জাহাজ ও ভূখণ্ডকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে শুরু করেছে।