নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ মার্চ ২০২৬ দুপুর ১২:২৮:১৯
যুক্তরাজ্যে চার দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা বন্ধের ঘোষণা
যুক্তরাজ্য সরকার রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনের হার অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আফগানিস্তান, মিয়ানমার, ক্যামেরুন ও সুদানের শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। অভিবাসন নীতি কঠোরের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থার অপব্যবহার রুখতে এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খবর আলজাজিরার।
স্থানীয় সময় ৩ মার্চ মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয় (হোম অফিস) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, স্টুডেন্ট ভিসায় আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে
রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রথমবারের মতো চারটি দেশের
নাগরিকদের ওপর ‘জরুরি ভিসা নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানান, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের
মধ্যে আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার ও সুদানের শিক্ষার্থীদের আশ্রয়ের আবেদনের
সংখ্যা ৪৭০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, ব্রিটেন
সবসময় যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা মানুষকে আশ্রয় দেবে। তবে আমাদের ভিসা ব্যবস্থার
অপব্যবহার করা যাবে না। যারা আমাদের উদারতার সুযোগ নিতে চাইছে, তাদের ভিসা প্রত্যাখ্যান
করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অভিবাসন এখন একটি প্রধান ইস্যু
হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কট্টর ডানপন্থি দল ‘রিফর্ম ইউকে’ তাদের অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের
কারণে জনমত জরিপে এগিয়ে যাচ্ছে। জনমত শান্ত করতে এবং রিফর্ম ইউকের জনপ্রিয়তা রুখতে
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রক্রিয়া কঠোর করেছে। একই
সঙ্গে অবৈধভাবে আসা ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (পিএ) জানিয়েছে, আগামীকাল
বৃহস্পতিবার অভিবাসনবিধি পরিবর্তনের মাধ্যমে এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর
করা হবে। একই দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ রাজনৈতিক আশ্রয় প্রক্রিয়ায় আরও
কড়াকড়ি আরোপের ঘোষণা দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে পিএর তথ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের
প্রতি ৩০ মাস অন্তর তাদের রিফিউজি স্ট্যাটাস বা শরণার্থীর মর্যাদা পর্যালোচনা করা হবে।
মূলত আশ্রয়প্রার্থীদের কাছে দেশটিকে কম আকর্ষণীয় করে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া
হচ্ছে।
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালে শিক্ষার্থীদের
আশ্রয়ের আবেদন ২০ শতাংশ কমানো সম্ভব হলেও, বর্তমান ব্যবস্থার ১৩ শতাংশ আবেদনই আসছে
স্টুডেন্ট ভিসায় আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে, যা নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।