নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ মে ২০২৬ দুপুর ০২:৩৯:০৪
ডলারকে কোণঠাসা করে লোহা বাণিজ্যে বড় সাফল্যে চীন
বিশ্ব বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের আধিপত্য কমাতে চীনের মাইলফলক। নিজস্ব মুদ্রা ইউয়ানকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার প্রচেষ্টায় দেশটি। দীর্ঘ সাত মাসের টানাপড়েন শেষে বিশ্বের বৃহত্তম তেল-গ্যাস উত্তোলন কোম্পানি বিএইচপি গ্রুপের সঙ্গে আকরিক লোহা বাণিজ্যের একটি বড় অংশ ইউয়ানে সম্পন্ন করার চুক্তি নিশ্চিত করেছে তারা।
ফোর্বসের এক খবরে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিএইচপি থেকে চীনে আসা সব আকরিক লোহা এতদিন ডলারে মূল্যায়িত হলেও নতুন চুক্তিতে এর একটি অংশ ইউয়ানে বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে। মূলত চীনা সরকারের নতুন প্রতিষ্ঠান ‘চায়না মিনারেল রিসোর্সেস গ্রুপ’ (সিএমআরজি) এই সাফল্যে মূল ভূমিকা পালন করেছে। বিএইচপি সরাসরি ইস্পাত কারখানাগুলোর সঙ্গে চুক্তি বজায় রাখতে অনড় থাকায় সিএমআরজি তাদের কিছু পণ্য নিষিদ্ধ করে চাপ সৃষ্টি করেছিল, যার ফলে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
গত এপ্রিলের শুরুতে বেইজিংয়ে বিএইচপির বিদায়ী প্রধান নির্বাহী মাইক হেনরি ও উত্তরসূরি ব্র্যান্ডন ক্রেইগের সঙ্গে চীনা কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। নতুন চুক্তিতে বিএইচপি চীনের নিজস্ব ‘বেইজিং আয়রন অর পোর্ট স্পট প্রাইস ইনডেক্স’ বা মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এছাড়া সরবরাহকৃত আকরিকে ১ দশমিক ৮ শতাংশ ছাড় দিতেও রাজি হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, যা চীনা ইস্পাত কারখানাগুলোর জন্য বড় বাড়তি সুবিধা।
চীনের এই অগ্রগতি পণ্য আমদানিতে নিজস্ব মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ। শুধু লোহা নয়, তেল বাণিজ্যেও ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে চীনা মুদ্রায় ঋণ গ্রহণের প্রবণতা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বল্প সুদের কারণে গোল্ডম্যান স্যাক্সসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংক চীনের অফশোর ঋণ বাজারে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন মূলত বিনিয়োগকারী ও কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা কমানোর একটি বড় প্রচেষ্টা।