নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬ সকাল ০৯:৪০:২৫
যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে: ইরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবার নতুন মোড় নিয়েছে। ওয়াশিংটন যদি তেহরানের ওপর পুনরায় সামরিক হামলা চালায়, তবে এই যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা অঞ্চলের বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আবার সামরিক অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত থেকে মাত্র এক ঘণ্টা দূরে’— এমন মন্তব্যের জবাবে বুধবার ইরানের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে ইরানের প্রকাশ্য বক্তব্যে আবারও এমন কিছু শর্তের পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই নাকচ করে দিয়েছিলেন। তেহরানের এসব শর্তের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, পূর্ববর্তী যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায়, ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মার্কিন ব্যাংকে জব্দকৃত ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে সম্পূর্ণভাবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার।
এর আগে, সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানান যে, তিনি ইরানের ওপর নতুন করে বোমা হামলার নির্দেশ দেওয়ার একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবে কূটনীতিকে আরও একটি সুযোগ দিতে এবং আলোচনার পথ খোলা রাখতে শেষ মুহূর্তে তিনি সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। পরবর্তীকালে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প আবারও বলেন, ‘আজ সিদ্ধান্ত নেওয়ার চূড়ান্ত মুহূর্ত থেকে আমি মাত্র এক ঘণ্টা দূরে ছিলাম।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে একটি কড়া বিবৃতি প্রকাশ করে। ইরান এর আগে হুমকি দিয়েছিল যে, কোনো হামলা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে। তবে বুধবারের বিবৃতিতে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এবার হামলার পরিধি মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে যাবে। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হলে, প্রতিশ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধ এবার বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত হতে পারে।
এদিকে, এই যুদ্ধাবস্থা ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। বিশেষ করে আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে এই চাপ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। গত এপ্রিলের শেষ দিকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেই ট্রাম্পের বক্তব্যে এক ধরনের দ্বিমুখী অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। তিনি কখনো নতুন করে বোমা হামলার হুমকি দিচ্ছেন, আবার কখনো খুব শিগগিরই শান্তিচুক্তি হতে যাচ্ছে বলে দাবি করছেন।
তবে মঙ্গলবার ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই যুদ্ধ ‘খুব দ্রুত’ শেষ হয়ে যাবে। গত মাসে অনুষ্ঠিত একমাত্র শান্তি আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও কিছুটা অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা বর্তমানে আলোচনার ক্ষেত্রে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছি।’
ওয়াশিংটনের এই নীতিগত ওঠানামা এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক তেলের বাজারে। মে মাসের শুরু থেকেই তেলের দাম ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও, বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে এক মাস মেয়াদি বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম প্রায় ১.৫% হ্রাস পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের কিছুটা নিচে নেমে আসে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দাম কিছুটা কমলেও তা গত সপ্তাহের তুলনায় এখনও অনেক বেশি উচ্চমূল্যে অবস্থান করছে।