নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ১১:২৭:৫৬
নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের তাণ্ডবে নিহত ৩২
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে মোটরসাইকেলে এসে তিনটি গ্রামে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে অন্তত ৩২ জনকে হত্যা করেছে বন্দুকধারীরা। এই হামলায় বেশ কিছু মানুষকে অপহরণ করা হয়েছে এবং পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।
১৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার নাইজেরিয়ার নাইজার রাজ্যের বোর্গু এলাকায় এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস এবং মুক্তিপণ আদায়কারী সশস্ত্র ডাকাত দলগুলোর কারণে সৃষ্ট জটিল নিরাপত্তা সংকটের মধ্যেই এই নতুন হামলা চালানো হলো।
নাইজার রাজ্যের পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন একটি গ্রামে হামলার খবর নিশ্চিত করে জানান, সন্দেহভাজন ডাকাত দল টুঙ্গা-মাকেরি গ্রামে হামলা চালিয়েছে। সেখানে ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং বেশ কিছু ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কতজনকে অপহরণ করা হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, হামলাকারীরা এরপর কোনকোসো গ্রামে আক্রমণ চালায়। তবে অন্যান্য হামলার বিস্তারিত তথ্য এখনও অস্পষ্ট।
কোনকোসো গ্রামের বাসিন্দা জেরেমিয়াহ টিমোথি জানান, খুব ভোরে গ্রামে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দে তাদের ঘুম ভাঙে। তিনি বলেন, হামলাকারীরা সকাল ৬টার দিকে গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে গুলি শুরু করে। তারা স্থানীয় পুলিশ স্টেশনেও আগুন ধরিয়ে দেয়। এখন পর্যন্ত আমাদের গ্রামেই ২৬ জন নিহত হয়েছেন। হামলার সময় আকাশে সামরিক জেট বিমান উড়তে দেখা গেছে বলেও তিনি জানান।
আবদুল্লাহি আদামু নামে আরেক বাসিন্দা জানান, হামলাকারীরা কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর বাধা ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে তাণ্ডব চালিয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি একজন মানবিক সহায়তাকর্মীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কোনকোসো গ্রামেই নিহতের সংখ্যা ৩৮ হতে পারে। নিহতদের অনেককে গুলি করে এবং কয়েকজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। ওই সূত্রটি আরও জানায়, গ্রামটির অধিকাংশ বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে।
কোনকোসো গ্রামের পর হামলাকারীরা পিসসা গ্রামে হানা দেয়। সেখানে তারা একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং একজনকে হত্যা করে। বর্তমানে বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে, চলতি মাসের শুরুর দিকে পার্শ্ববর্তী কওয়ারা এবং কাতসিনা রাজ্যে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের হামলায় প্রায় ২০০ জন নিহত হয়েছিলেন। নাইজার ও কওয়ারা রাজ্যের সীমান্তবর্তী কাইনজি বন এলাকাটি বোকো হারামসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত।
এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে বোর্গু এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক নেতারা প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবুকে ওই অঞ্চলে একটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে লবঙ্গ খাওয়া উচিতসুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে লবঙ্গ খাওয়া উচিত
নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে গত বছর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির সমালোচনা করেছিলেন। এরপর থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে আন্তর্জাতিক চাপে রয়েছে নাইজেরিয়া।
তবে নাইজেরিয়া সরকার খ্রিস্টানদের ওপর পরিকল্পিত নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাইজেরিয়ার এই নিরাপত্তা সংকটে মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই সমানভাবে প্রাণ হারাচ্ছেন। নিরাপত্তা উন্নয়নে বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কাজ করছে নাইজেরিয়া সরকার। গত ডিসেম্বরেও সোকোতো রাজ্যে বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী।