নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ জুন ২০২৬ দুপুর ০১:১০:০৯
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আবারও সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। সপ্তাহের শেষে উভয় দেশই একে অপরের সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে। এর ফলে চলমান যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, রাডার এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর উড়তে থাকা একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার পর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। খবর বিবিসির।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। তবে ঘাঁটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি। আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকলে তাদের প্রতিক্রিয়া হবে আরও কঠোর।
এদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। তবে হামলাগুলো কোথায় ঘটেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী শান্তি চুক্তি হয়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করলেও আলোচনায় এখনও কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি দেখা যায়নি।
সাম্প্রতিক খসড়া প্রস্তাবে ৬০ দিনের জন্য সংঘাত বন্ধ রাখা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রস্তাবটির বিভিন্ন ধারা সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছেন বলে মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে হয়ে থাকে। ফলে এই জলপথে অস্থিরতা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।
কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংকট এখনও সমাধানের পথে পৌঁছায়নি।