নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৫ মার্চ ২০২৬ দুপুর ১২:১৬:০৫
খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান ইরান কেন স্থগিত করেছে?
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছিলো ইরান। কিন্তু তা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। ৪ মার্চ বুধবার সন্ধ্যায় তেহরানে এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও দেশটির কর্তৃপক্ষ শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করে দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, সরকারিভাবে বিপুল জনসমাগমের
প্রস্তুতির কথা বলা হলেও, বিশ্লেষকরা এর পেছনে গভীর নিরাপত্তা শঙ্কা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক
জটিলতাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন।
২৮ মার্চ শনিবার থেকে ইরান ক্রমাগত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
ও ইসরায়েলি বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। তেহরানের আশঙ্কা, সর্বোচ্চ নেতার জানাজায়
যখন লাখ লাখ মানুষ ও দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব একত্রিত হবেন, তখন সেই জমায়েত বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র
বা ড্রোন হামলার সহজ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। জনসাধারণের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের
সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের সংবিধানে সর্বোচ্চ নেতার পদটি অত্যন্ত শক্তিশালী।
বর্তমানে দেশটি একজন নতুন নেতা নির্বাচনের সন্ধিক্ষণে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই
নিয়োগ কোনো সাধারণ প্রক্রিয়া নয়; বরং এর ওপর ইরানের ভবিষ্যৎ অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতি
নির্ভর করছে।
৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ বর্তমানে নতুন নেতা নির্বাচনের
প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পরিষদের একজন সদস্য জানিয়েছেন, এই পদের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রয়োজনীয়
পরামর্শ ও পর্যালোচনার জন্য আরও সময়ের প্রয়োজন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংবিধান অনুযায়ী একটি অন্তর্বর্তীকালীন
নেতৃত্ব কাউন্সিল গঠিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও বিচার
বিভাগের প্রধান।
সংবিধানে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ উত্তরসূরি নিয়োগের কথা
বলা থাকলেও বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এই প্রক্রিয়াকে ধীর
করে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক শির হেভারের মতে, এই সময় নেওয়া হচ্ছে মূলত একজন ‘নিরাপদ’ ও ‘কট্টরপন্থি’ উত্তরসূরি খুঁজে পেতে,
যিনি এই সংকটময় মুহূর্তে দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারবেন।
বর্তমানে তেহরানের মোসাল্লা (নামাজ চত্বর) ও অন্যান্য
গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা
প্রস্তুত হলে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যতক্ষণ না আকাশসীমায় পূর্ণ
নিয়ন্ত্রণ বা যুদ্ধবিরতির কোনো আভাস মিলছে, ততক্ষণ এই অনুষ্ঠান আয়োজনের ঝুঁকি নেবে
না ইরান।