নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫:০২
সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের জন্য সিইসি’র নির্বাচনকালীন নির্দেশনা
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশ্যে বিশেষ ব্রিফিং করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার তিনি নির্বাচনের সামগ্রিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে কমিশনের গৃহিত পদক্ষেপগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
সিইসি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, একটি বিশ্বাসযোগ্য
ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন শুরু থেকেই স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
দিয়ে আসছে। এ সময় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ে যে ব্যাপক আগ্রহ
তৈরি হয়েছে, তার একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন সিইসি।
তিনি জানান, প্রায় ২০টি দেশের রাষ্ট্রদূত এবং মিশনারীরা
এই নির্বাচনী ইভেন্টে আমন্ত্রিত হিসেবে উপস্থিত থাকছেন। এছাড়া ১৬০ জনেরও বেশি আন্তর্জাতিক
সাংবাদিক স্বতন্ত্রভাবে এই নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের জন্য কাজ করছেন। দেশীয় পর্যায়ে
৮১টি নিবন্ধিত সংস্থা থেকে ৪৪ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক মাঠে থাকবেন। সিইসি আশা প্রকাশ
করেন যে, ৬০ হাজারেরও বেশি সাংবাদিককে ইতোমধ্যে পরিচয়পত্র প্রদানের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত
করা হয়েছে এবং সকল অ্যাক্রিডিটেশন প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সংবাদকর্মীদের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি
দিয়ে সিইসি বলেন, ‘সাংবাদিকরা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম যাদের দ্বারা যেকোনো অনিয়ম
দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব।’
তিনি জানান, সাংবাদিকরা পোলিং স্টেশনে প্রবেশের অনুমতি পাবেন, তবে শর্ত একটাই—ভোট দেওয়ার কক্ষের গোপনীয়তা
বজায় রাখতে হবে এবং ভোটারদের কোনো অসুবিধা করা যাবে না। পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে তিনি বলেন,
কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী তারা পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং নির্বাচনের
পর তাদের পাওয়া ফলাফল বা পর্যবেক্ষণ জনসমক্ষে প্রকাশ করার পূর্ণ স্বাধীনতা তাদের থাকবে।
নির্বাচন নিয়ে কমিশনের অটল প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত
করে এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক
নির্বাচন উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ এই লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। সিইসি
তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, প্রাসঙ্গিক সরকারি কর্মকর্তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধিরাও
কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সিইসি’র বক্তব্যের পর নির্বাচনী প্রস্তুতির প্রায়োগিক
ও কারিগরি দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল
আহসান হাবিবকে। সিইসি জানান, মাঠ পর্যায়ের নিরাপত্তা এবং ভোটকেন্দ্রের ভেতরের বিশদ
ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পরবর্তী সেশনে আরও বিস্তারিত ব্রিফিং প্রদান করা হবে।
সবশেষে উপস্থিত সকলের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার ওপর আস্থা
রেখে সিইসি তার বক্তব্য শেষ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের বস্তুনিষ্ঠ
প্রতিবেদন এবং গঠনমূলক অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে এবং জনমনে আস্থা ফেরাতে
অর্থবহ অবদান রাখবে।