নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৯ আগস্ট ২০২৬ রাত ০৬:৩৯:৪৯
তরুণ নারীরা নেতৃত্ব পেলে পুরো দেশের ভবিষ্যৎকেই শক্তিশালী করে: ডা. জুবাইদা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান কিশোরী ও তরুণীদের অদম্য সাহসিকতা ও অর্জনের প্রশংসা করে বলেন, "যখন তরুণ নারীরা নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ ও ক্ষমতায়ন পায়, তখন তারা কেবল তাদের নিজ সমাজকেই নয়, বরং পুরো দেশের ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করে তোলে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সংগত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তাদের কণ্ঠস্বর, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং নেতৃত্ব অপরিহার্য।"
রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ‘শি লিডস টুমরো’ শীর্ষক জাতীয় সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. জুবাইদা রহমান। নতুন প্রজন্মের নারী নেতৃত্ব, দৃঢ়তা ও ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষাকে উদযাপন করতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়, ইউএন উইমেন এবং ইউএনওপিএস বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
‘জয়েন্ট এসডিজি ফান্ড’-এর সহায়তায় এবং "এসডিজি ৫ ও এসডিজি ১৬ স্থানীয়করণের মাধ্যমে বাংলাদেশে নারীদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব বৃদ্ধি" শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ১,০০০-এরও বেশি কিশোরী ও তরুণীকে নেতৃত্ব প্রদান এবং নিজ নিজ সম্প্রদায়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, এমপি এবং অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুল আউয়াল।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, "বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে নারীদের অর্থবহ অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। আজকের তরুণ নারীদের নেতৃত্বের আসনে বসানোর অর্থ হলো আগামী দিনের জন্য শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা।"
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুল আউয়াল বলেন, "এসডিজি স্থানীয়করণের মূল উদ্দেশ্য হলো জাতীয় প্রতিশ্রুতিগুলোকে তৃণমূল মানুষের জীবনে বাস্তবায়ন করা। বাংলাদেশের আগামীর সিদ্ধান্ত ও সমাধান তৈরিতে তরুণ নারীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।"
অনুষ্ঠানে ইউএনওপিএস বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরন এবং ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং নারীদের নেতৃত্ব ও অধিকার সুরক্ষায় কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারোল ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াক এসডিজি বাস্তবায়নে সমন্বিত অংশীদারিত্বের ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল প্রধান অতিথি কর্তৃক ‘শি লিডস টুমরো’ বিশেষ কফি টেবিল বইয়ের মোড়ক উন্মোচন এবং একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন, যেখানে অংশগ্রহণকারী তরুণীদের জীবন পরিবর্তনের গল্প তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে কূটনীতি, রাজনীতি এবং লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তিনটি পৃথক উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১২ মাসব্যাপী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে এই প্রকল্প পরিচালিত হয়। সরকারি স্কুল, মাদরাসা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তরুণীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নাগরিক শিক্ষা এবং নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি এটি 'এসডিজি স্থানীয়করণের জন্য বাংলাদেশ মডেল' গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।