নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬ সকাল ১১:৪৬:৩০
ভারতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা!
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ভারতের দিল্লিতে আত্মহত্যা করেছেন মোস্তফা আহমেদ সাগর (২৫) নামের বাংলাদেশি এক শিক্ষার্থী। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো ঘটনা- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।
শনিবার (২৩ মে) বিকেলে তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে পোস্ট দেওয়ার পরে আত্মহত্যা করেন তিনি। নিহত সাগর জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঘুঘুমারি এলাকার মোশারফ হোসেন মিন্টুর ছেলে। তিনি ভারতের দিল্লির ফরিদাবাদ এলাকার ‘মানাব রাচনা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজে’ কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। মৃত সাগরের বাবা মোশারফ হোসেন মিন্টু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাগর শনিবার (২৩ মে) বিকেলে তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। ফেসবুক পোস্টে সাগর লিখেন, ‘মা-বাবা তোমরা আমায় মাফ করিও। নিজেকে অনেক বাঁচানোর জন্য যুদ্ধ করলাম, অবশেষে আজ আমি ক্লান্ত এবং চলে যাচ্ছি খোদার কাছে। আমি দেশের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি জানি না। আমি শুধু আপনাদের কাছে দোয়া চেয়ে গেলাম। ভুল করে থাকলে মাফ করবেন। আমি জীবনে একটা চাওয়া খোদার কাছে, প্রতিটা সময়ই চেয়েছি, পেয়েও পাইনি। রাখার চেষ্টা করেও রাখতে পারিনি। আমি এতটাই হতভাগা হয়ে জন্ম নিয়েছিলাম।’
পোস্টে সাগর তার প্রেমিকাকে উদ্দেশ্যে লিখেন, ‘ভালো থাকুক ভালোবাসার মানুষটি, তার হাতে হয়ত হাত রেখে বেঁচে থাকার স্বপ্নটা পূরন হলো না। কত করে বুঝিয়েছি হলোই না। তাকে কথা দিয়েছিলাম হয় তুমি, নয় মৃত্যু। তাকে কথা দেওয়াটা পূরণ করে তাকে মুক্তি দিলাম। তাকে কেউ দোষারোপ করবেন না, তাকে বাঁচতে দিয়েন আমার জন্য হলেও। আর হ্যাঁ, আমাকে যেন পোস্টমর্টেম না করা হয়, কারণ সে কষ্ট পাবে। আমাকে পারলে ঝামেলাহীন দাফন করে দিয়েন। কবরের দেয়ালে লিখে দিয়েন ‘হতভাগা’। ভালো থেকো তুমি, তোমায় দেওয়া কথা পূরণ করলাম। কান্না করবে না বুঝছো। তোমার কান্না আমার সহ্য হয় না। তুমি আমার জন্য দোয়া কইরো। বিদায় প্রিয় মানুষ, বন্ধু, বাবা-মা।’
পরে সাগরের বাবা-মা বাসার অন্যদের মাধ্যমে জানতে পারে যে এই স্ট্যাটাসের পরপরই সাগর ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে।
সাগরের বাবা মোশারফ হোসেন মিন্টু বলেন, আমি হুট করেই শুনি আমার ছেলে আত্মহত্যা করেছে। ও আত্মহত্যা করেছে নাকি তাকে খুন করা হয়েছে সেটা আমি জানি না। আমি এর সঠিক বিচার চাই। আর ছেলের লাশটা চাই। সরকারের কাছে আমার আকুল আবেদন আমার ছেলের লাশটা যাতে দ্রুত এনে দেয়।
সাগরের মা বলেন, আমি শনিবার দুপুর ১২টার সময় আমার ছেলের সঙ্গে কথা বলছি। আমি ফোন দিয়ে বলছি, ময়না তুমি কি করো? আমার ছেলে বলল, আম্মা আমি শুয়ে আছি। আমি বলছি তুমি যে এখনো শুয়ে আছ সামনে না তোমার পরীক্ষা। সাগর বলল, ২৬ তারিখ পরীক্ষা এখনো অনেক সময় আছে। তারপর বললাম, তুমি যে ৪০ হাজার টাকা নিলা কলেজের জমার রিসিভ তো আমারে পাঠাইলা না। সাগর বলল, আম্মা পরে দিমুনি, তুমি ফোন রাখো। এই পর্যন্তই শেষ কথা। আমার ছেলে কিভাবে মারা গেল আমি এর তথ্যটা চাই। আমার ছেলেকে মেরে ফেলছে নাকি সে নিজে নিজে মরছে এটা জানতে চাই।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, বিষয়টি আমিও ফেসবুকে দেখেছি। বিষয়টি খুবই বেদনাদায়ক।