নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬ রাত ০৭:০৫:০৩
ঈদের পরই রামিসা হত্যার বিচার: আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ডিএনএ প্রতিবেদন পেলে ঈদুল আজহার পরই শিশু রামিসা হত্যার বিচার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন। ২৩ মে শনিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার অডিটরিয়ামে এক কর্মশালায় এ কথা বলেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই মামলা দ্রুত সময়ে শেষ করব । দেশের সাধারণ মানুষ এবং দেশ-বিদেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হব আমরা।’
আইনমন্ত্রী জানান, সাধারণত ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পেতে কয়েক সপ্তাহ বা মাস লাগলেও রামিসা হত্যা মামলায় গুরুত্ব দিয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ মে থেকে সরকারি ছুটি শুরু হচ্ছে। আইনমন্ত্রী জানান, এই ছুটির আগেই যদি ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়া যায় এবং ঈদের আগে চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হয়, তবে ঈদের পরপরই বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব।
মামলার চার্জশিট দাখিলের পর বিচার শেষ করতে কতদিন লাগতে পারে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, মাগুরার আছিয়া হত্যা মামলায় চার্জশিট দাখিলের পর বিচার শেষ করতে এক মাস সময় লেগেছিল। এ ছাড়া ১৯৪৮ সালের মুলুক চাঁদ মামলার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সে মামলায় একদিনেই বিচারকাজ হয়েছিল।
তবে তাড়াহুড়া করে মামলায় দুর্বলতা রাখা যাবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আইন অনুসরণ না করে চার্জশিট দাখিল করলে প্রসিকিউশনে ফ্যাটাল ইনজুরি (বড় ফাঁকফোকর) থেকে যেতে পারে। এ ধরনের স্পর্শকাতর মামলায় ডিএনএ গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ।’
আইনমন্ত্রী আরও জানান, বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিলেও তা চূড়ান্ত কার্যকর করতে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন।
বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো ভুল করলে আপনারা সমালোচনা করবেন, সঠিক পথ গাইড করবেন।’
সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি নিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, এটি সামাজিক অবক্ষয়ের অংশ। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা জোরদার করায় গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ সময় নেত্রকোনায় এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা আইনমন্ত্রীর নজরে আনা হলে তিনি জানান, সরকার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, আইনের সহায়তা গরিব, অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব আরও জোরদার হবে। বৈষম্যবিরোধী আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনে কোনো বৈষম্য থাকলে তা দূর করা হবে।
বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য দেন আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদেম উল কায়েস।
এছাড়া বাৎসরিক মুক্ত আলোচনায় ব্লাস্ট, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ও ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।