নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬ দুপুর ১২:২৮:৪৭
জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব-পুলিশের ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দিল দুর্বৃত্তরা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড় ঘেরা জঙ্গল সলিমপুরে নবনির্মিত র্যাব ও পুলিশের যৌথ ক্যাম্পে মধ্যরাতে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। আধুনিক ও ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দুর্বৃত্তরা পুরো ক্যাম্প গুড়িয়ে দিয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা উভয়পক্ষের ব্যাপক গোলাগুলির পর এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উল্লেখ্য, আগামী ৩১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বিশেষ ক্যাম্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার কথা ছিল। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
র্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৪ মে) দিনগত রাত ১টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে ক্যাম্পের সবার ঘুম ভাঙে। একে-৪৭, এসএমজিসহ ভারী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কয়েকশ দুর্বৃত্ত চারপাশ থেকে ক্যাম্পটি ঘিরে ফেলে অতর্কিতে গুলি চালাতে শুরু করে। একই সঙ্গে তারা বুলডোজার নিয়ে এসে নবনির্মিত ক্যাম্পের দেয়াল ও স্থাপনা ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। রিকল্পিত এই হামলার অংশ হিসেবে দুর্বৃত্তরা জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশের প্রধান সড়কের কয়েক জায়গার মাটি কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এসময় আশেপাশের বেশ কিছু সাধারণ মানুষের বসতঘর ও স্থাপনাতেও ভাঙচুর চালানো হয়। পরে র্যাবের পাল্টা প্রতিরোধের মুখে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে প্রচণ্ড গোলাগুলির পর পিছু হটে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
র্যাব-৭ এর অধিনায়ক (সিও) লেফট্যানেন্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানান, একে-৪৭, চাইনিজ রাইফেল ও এসএমজির মতো ভারী অস্ত্র নিয়ে এই রিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। এমনকি সড়ক কেটে ও বুলডোজার ব্যবহার করে ক্যাম্পটি ধ্বংস করার চেষ্টা চালায় তারা।
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং জঙ্গল সলিমপুরজুড়ে চিরুনি অভিযান শুরু করেন। অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যেই সন্দেহভাজন ২০-২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম জানান, সরকারি ক্যাম্পে হামলার মতো ধৃষ্টতা দেখানো এই দুর্বৃত্তদের আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। মূল হোতাসহ জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, এর আগে গত জানুয়ারি মাসে এই জঙ্গল সলিমপুরেই দুর্বৃত্তদের হামলায় র্যাবের ডিএডি মোতালেব নিহত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে গত ৯ মার্চ যৌথ বাহিনীর এক অভিযানের মাধ্যমে এই এলাকাকে সন্ত্রাসমুক্ত করা হয়েছিল।