নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০১:২৯:২০
সাংবাদিক তরিক শিবলীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট: মামলা হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে আসামিরা
চ্যানেল এস-এর প্রয়াত সাংবাদিক তরিক শিবলীর গ্রামের বাড়িতে পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গত ৭ মার্চ দুপুরে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নের এতবারপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ৮ মার্চ বুড়িচং থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মার্চ দুপুর আনুমানিক ৩টার সময় স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাইজিদ (২৭), মোসাঃ ঝর্ণা বেগম (৪০) ও মো. ফারুকের (২৬) নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাংবাদিক তরিক শিবলীর পৈত্রিক বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা নির্মাণাধীন সীমানা প্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় এবং বাড়িতে থাকা মিস্ত্রি ও পরিবারের সদস্যদের ওপর চড়াও হয়। বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা বাড়ির মহিলাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইতিপূর্বে গত ২১ ফেব্রুয়ারি
এই চক্রটি বাড়ি থেকে ১.৫ টন রড, ৪টি বড় কড়ই গাছ এবং ৮০ বস্তা সিমেন্টসহ প্রায় ৩ লক্ষ
টাকার নির্মাণ সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। সর্বশেষ হামলার ঘটনায় তারা আরও প্রায় ৪০ হাজার
টাকার ক্ষয়ক্ষতিসহ তাণ্ডব চালায়।
এ ঘটনায় প্রয়াত সাংবাদিকের ফুফু ফাহমিদা আক্তার বাদী হয়ে
বুড়িচং থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলা দায়েরের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও প্রধান
অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা
তুলে নিতে পরিবারটিকে ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছে। পুলিশের এই রহস্যজনক 'টালবাহানা' ও নিষ্ক্রিয়তায়
চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তরিক শিবলীর স্বজনরা।
এ বিষয়ে বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফুর রহমান
বলেন, হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে থানা পুলিশ।
মামলার পর থেকে আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পলাতক থাকলেও দ্রুতই
অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সাহসী সাংবাদিক তরিক শিবলীর মৃত্যুর পর তাঁর পৈত্রিক ভিটা
দখলের অপচেষ্টা ও পরিবারের ওপর এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ ও স্থানীয়
সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অবিলম্বে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার
করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য যে, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের সেই ঐতিহাসিক দিনটি আজও সাংবাদিক মহলে এক শোকাতুর স্মৃতি। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন চ্যানেল এস-এর তৎকালীন সিনিয়র রিপোর্টার তরিকুল ইসলাম শিবলী। সেদিন সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি একাধারে ভোটার উপস্থিতি ও ভোটের পরিবেশ নিয়ে একাধিকবার সরাসরি (লাইভ) সম্প্রচারে যুক্ত ছিলেন। মাইক্রোফোন হাতে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ভর দুপুরে হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পেশাগত মাঠেই একজন সাংবাদিকের এমন অকাল প্রয়াণ সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক বিরল ও হৃদয়বিদারক ঘটনা।
তার এই অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন তৎকালীন মহামান্য প্রধান উপদেষ্টা ও তথ্য উপদেষ্টা সহ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল সেই সাহসী কলম সৈনিকের প্রয়াণে। অথচ আজ সেই সাংবাদিকেরই পৈত্রিক ভিটা দখলের পাঁয়তারা করছে একদল ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী।