নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৫:০৪:০২
প্যাকেটজাত খাদ্যের সম্মুখভাগে সহজবোধ্য সতর্কতামূলক লেবেল বিষয়ক কর্মশালা
রাজধানীর ধানমন্ডিতে প্যাকেটজাত খাদ্যের মোড়কের সম্মুখভাগে সহজবোধ্য পুষ্টি তথ্য প্রদর্শনের লক্ষ্যে দিনব্যাপী একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন-এর প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্য সেক্টরের আয়োজনে এবং গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর-এর সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল বৈশ্বিক ও জাতীয় প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ, রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুধাবন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের চিহ্নিতকরণ এবং একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন। এতে অংশগ্রহণকারীরা খাদ্যজনিত অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে “ফ্রন্ট-অব-প্যাক লেবেলিং” চালুর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
কর্মশালায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ এবং গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস। তারা জানান, বিশ্বের ৪৪টি দেশে ইতোমধ্যে এই লেবেলিং পদ্ধতি চালু হয়েছে, যার মধ্যে ১০টি দেশে এটি বাধ্যতামূলক। এর ফলে ভোক্তাদের খাদ্য নির্বাচনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ কমেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআর-এর সাবেক উপদেষ্টা ডা. এম মুশতাক হোসেন বলেন, ফ্রন্ট-অব-প্যাক লেবেলিং একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়ক। তিনি উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত চিনি, লবণ, স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স-ফ্যাটসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণের কারণে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও স্থূলতা দ্রুত বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০–৭১ শতাংশই এসব রোগের কারণে ঘটে।
পলিসি এক্সপার্ট তাইফুর রহমান বলেন, প্যাকেটজাত খাদ্যের পেছনের জটিল পুষ্টি তথ্য অধিকাংশ ভোক্তার জন্য বোধগম্য নয়। দেশে প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার প্যাকেটজাত খাদ্য গ্রহণ করলেও তথ্যের অভাবে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তাই মোড়কের সামনে সহজ ও সতর্কতামূলক তথ্য প্রদর্শন ভোক্তাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
প্রকল্প সমন্বয়কারী মাহবুবা রহমানের সঞ্চালনায় কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার আমিনুল ইসলাম সুজন, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশের প্রতিনিধি সৈয়দা অনন্যা রহমান, ইয়ুথ পলিসি ফোরামের সাদ ইবনে ওয়ালিদ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-এর অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মোঃ বজলুর রহমান, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা দলীয় আলোচনার মাধ্যমে নীতিনির্ধারক, রাজনৈতিক নেতা, সম্ভাব্য সমর্থক ও বিরোধী পক্ষসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের চিহ্নিত করেন এবং তাদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক মানচিত্রায়ন, স্বার্থের দ্বন্দ্ব বিশ্লেষণ, অংশীদার সম্পৃক্তকরণ এবং যৌথ কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বারোপ করা হয়। আগামী ছয় মাসের জন্য একটি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনাও প্রণয়ন করা হয়েছে।