নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৫:৩৪:৫৪
রাষ্ট্রপতি খুনির সহযোগী, তার বক্তব্য শুনতে পারি না: জামায়াত আমির
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে সংসদ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য চলাকালেই জামায়াত ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।
পরে জামায়াত আমির ওয়াকআউটের বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অপরাধী। তিনি সকল খুনির সহযোগী ছিলেন। একটি খুনের বিষয়েও তিনি ব্যবস্থা নেননি। অভিভাবক হিসেবেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। তার বক্তব্য আমরা এই মহান সংসদে শুনতে পারি না।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের এই কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, এই রাষ্ট্রপতি তিনটা কারণে অপরাধী, যার কারণে আমরা তার বক্তব্য শুনতে পারি না। প্রথমত, তিনি সব খুনের সহযোগী ছিলেন। তার আমলে যে খুনগুলো হয়েছে একটার বিরুদ্ধেও তিনি প্রতিবাদ করেননি, কোনো ব্যবস্থাও নেননি। একজন অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রতি তিনি জঘন্য অপরাধ করেছেন।
দ্বিতীয়ত, তিনি ২০২৪ সালের আগস্টের ৫ তারিখ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন সেই ভাষণে তিনি বলেছিলেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি তা মঞ্জুর করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তা অস্বীকার করেছেন। তিনি জাতির সামনে মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন। মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হওয়ার পরে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে থাকার তার আর কোনো নৈতিক অধিকার থাকে না।
তৃতীয় কারণ হিসেবে জামায়াত আমির বলেন, রাষ্ট্রপতি নিজের হাতে অর্ডিন্যান্স স্বাক্ষর করেছেন। নির্বাচনে দুটি ভোট হবে, এতে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবে তারা সংস্কার সংশোধন পরিষদের সদস্য হিসেবেও নির্বাচিত হবেন। একই দিনে উভয় শপথ একই ব্যক্তি পড়াবেন। এই শপথ দুটি আমরা নিলেও সরকারি দল নেয়নি। তার প্রথম দায়িত্ব ছিল গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের ভেতরে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা, কিন্তু তিনি সেই অধিবেশন ডাকেননি। গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ হ্যাঁ ভোট দিয়েছে, তিনি এই মানুষদের অপমান করেছেন। এখানেও তিনি অপরাধ করেছেন।
এ সময় স্পিকার বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যদের কথা রাখেননি বলেও অভিযোগ করেন জামায়াত আমির।
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, সংসদে কোনো অন্যায়কে বরদাশত করবো না। সংসদ কারো একার নয়। আমরা জনগণের পক্ষে কথা বলতে এসেছি।
ওয়াকআউটের পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, হাজারো মানুষের রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করেছি। ফ্যাসিস্ট দোসর রাষ্ট্রপতি বক্তব্য দিতে আসায় আমরা বক্তব্য দিতে চেয়েছিলাম, স্পিকার সুযোগ দেননি, ফলে আমরা ওয়াকআউট করেছি।