নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬ রাত ০৮:২২:১৬
আইইবিতে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, এমপি। তিনি বলেন, দেশের দৃশ্যমান উন্নয়নের পেছনে প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সড়ক, সেতু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বড় অবকাঠামো নির্মাণে প্রকৌশলীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতেও একটি উন্নত ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রকৌশলীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি। তিনি বলেন, দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ প্রকৌশলী বা চিকিৎসক হিসেবে গড়ে ওঠেন। তবে প্রশাসনিক কাঠামোর কারণে অনেক সময় কারিগরি পদে অকারিগরি জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়, যা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। সুষ্ঠু উন্নয়নের স্বার্থে কারিগরি পদে কারিগরি জনবল নিয়োগ নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, এমপি বলেন, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের মতো প্রকৌশলীরাও নানা সীমাবদ্ধতা ও সমস্যার মুখোমুখি হন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রকৌশলীদের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় সমাধান দেবে। দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি প্রকৌশলীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মো. আশরাফ উদ্দিন (বকুল) বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই প্রকৌশলীরা নানা ক্ষেত্রে অবহেলার শিকার। অতীতে আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত প্রকৌশলীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে চাকরি হারানো প্রকৌশলীদের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার দাবি জানান তিনি।
এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন বলেন, প্রকৌশল খাতের বিশেষায়িত অনেক পদে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের পরিবর্তে অকারিগরি জনবল নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হচ্ছে এবং কাজের গতি কমে যাচ্ছে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রকৌশলীদের যথাযথ পদায়নের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইবির প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু)। তিনি বলেন, প্রকৌশলীদের ন্যায্য অধিকার ও পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় আইইবি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আরও আলোচনা ও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
স্বাগত বক্তব্য দেন আইইবির ভারপ্রাপ্ত সম্মানী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মুহাম্মদ আহসানুল রাসেল। তিনি আইইবির ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীনতার পর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ নামে নতুন পরিচয়ে দেশের প্রকৌশলীদের পেশাগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তিনি আরও বলেন, আইইবির অধীনস্থ ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজ, বাংলাদেশ (ইএসসিবি) প্রকৌশলীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন তালুকদার এবং ইআরসি ঢাকার ভাইস-চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খান আতাউর রহমান সান্টু।
অনুষ্ঠানে আইইবির ভাইস-প্রেসিডেন্ট (প্রশাসন ও অর্থ) ও আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী এ.টি.এম. তানবীর-উল হাসান (তমাল) ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব ও আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী কে. এম. আসাদুজ্জামান।
এ সময় আইইবির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আইইবির ভাইস-প্রেসিডেন্ট (একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক) প্রকৌশলী খান মনজুর মোরশেদ, ভাইস-প্রেসিডেন্ট (এইচআরডি) প্রকৌশলী শেখ আল আমিন, ভাইস-প্রেসিডেন্ট (এসঅ্যান্ডডব্লিউ) প্রকৌশলী নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া, সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহবুব আলম, প্রকৌশলী মো. নূর আমিন ও প্রকৌশলী সাব্বির আহমেদ ওসমানী।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের ভাইস-চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রকৌশলী মো. কামরুল হাসান (উজ্জল), প্রকৌশলী মো. শাহীন হাওলাদার, প্রকৌশলী রবিউল আলম উজ্জ্বল, প্রকৌশলী মোতাহার হোসেন, প্রকৌশলী আলমগীর হাসিন আহমেদ, প্রকৌশলী সরদার আনিছুর রহমান রানা, প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ (সেলিম), প্রকৌশলী মুহাম্মদ কামরুল হাসান খানসহ আইইবির বিভিন্ন বিভাগ, চ্যাপ্টার ও প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীবৃন্দ।