নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ০১:১৫:২০
ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি ‘এলপিজি কার্ডও’ দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
দেশের প্রতিটি সাধারণ ও নারী প্রধান পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সরকার এবার ‘এলপিজি কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৭ এপ্রিল সোমবার যশোরের শার্শায় ঐতিহাসিক উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানিয়েছেন তিনি।
মা-বোনদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মা-বোনদের একটি কারণে খুব কষ্ট হয়, রান্নাবাড়ির ব্যাপারে কষ্ট হয়; সেটি গ্রামের মা-বোনই হোক, সেটি শহরের মা-বোনই হোক। আমরা যেমন সারা দেশের মায়েদের কাছে আমরা যেমন ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি, সেরকম আরেকটি কাজ দিতে চাই সেটি হবে এলপিজি কার্ড। এলপিজি গ্যাস এটি আমরা মা-বোনদেরকে পৌঁছে দিব যাতে করে মা-বোনদেরকে রান্নাবান্নার জন্য কষ্ট করতে না হয়।’
খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে বিএনপি ক্ষমতায় এসে দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে দেশে আমরা শহীদ জিয়ার রেখে যাওয়া সেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করব। ইনশাল্লাহ আগামী ৫ বছরে আমরা চেষ্টা করব সারাদেশে এই উলশী খালের মতো প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল আমরা খনন করতে চাই যাতে করে গ্রামের মানুষ, গ্রামে বসবাসকারী মানুষ, কৃষক ভাই-বোনেরা, এলাকাবাসী এবং তরুণ সমাজের সদস্যরা তরুণরা হোক বিভিন্ন রকম আয় রোজগারের সুবিধা সেখান থেকে করতে পারে আমরা খাল খনন সেই জন্য করতে চাই।’
নারীদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এই যে প্রায় ২০ কোটি জনসংখ্যা, এর অর্ধেক হচ্ছে নারী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এই নারীদের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে ফ্রি করে দিয়ে গেছেন। প্রথমবার করেছেন স্কুল পর্যায়, দ্বিতীয়বার করেছেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সেই কর্মসূচির অংশকে আমরা আরও সামনে নিয়ে যেতে চাই। এজন্য আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে, খালেদা জিয়া ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত করে দিয়ে গিয়েছেন, আমরা মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা ইনশাল্লাহ ডিগ্রি পর্যন্ত অর্থাৎ উচ্চতর পর্যন্ত ইনশাল্লাহ বিনামূল্যে ব্যবস্থা করব। শুধু মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করব না, একই সঙ্গে আমাদের যে মেয়েরা ভাল রেজাল্ট করতে পারবে তাদের জন্য আমরা উপবৃত্তির ব্যবস্থা করব সরকার থেকে যাতে করে তারা আরও উচ্চতর শিক্ষা লাভ করতে পারে।’
নারী প্রধান পরিবারের ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম খাল খনন করব, আমরা কিন্তু আমাদের ওয়াদা রেখেছি। মা-বোনদের স্বাবলম্বী করার জন্য আমরা ফ্যামিলি কার্ড দেব। ইনশাল্লাহ আগামী ৫ বছরের মধ্যে আমরা চেষ্টা করব সকল গ্রাম, দেশের সকল গ্রামে সকল মায়েদের হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ। আমরা ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মায়ের কাছে প্রতি নারী পরিবারের প্রধানের কাছে আমরা মাসের পক্ষ থেকে ইনশাল্লাহ আড়াই হাজার টাকা করে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করব যাতে করে তারা তাদের সন্তানদের দেখভাল করতে পারে, তাদের সন্তানের পড়াশোনা দেখাশুনা করতে পারে ভাল করে। তাদের সন্তানকে দু-চারটি ভাল ফল খাওয়াতে পারে যাতে করে তারা মা-বোনেরা একই সাথে সেই আড়াই হাজার টাকা থেকে ছোট ছোট উদ্যোক্তা গ্রহণ করতে পারেন—হাঁস পালন, মুরগি পালন, গরু-ছাগল পালন এরকম কাজের মাধ্যমে যাতে মা-বোনদের একটা নিজের রুজি রোজগারের ব্যবস্থা হয় সেটি আমরা করতে চাই।’
কৃষক ও শ্রমিকদের কল্যাণে নেওয়া পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম যে বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষক ভাইদের জন্য আমরা কৃষি কার্ড দেব। কৃষক ভাইদের আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ যেটা আছে সেটা আমরা মওকুফের ব্যবস্থা করব। আল্লাহর রহমতে আমরা সেই কাজও শুরু করেছি এবং সরকার গঠনের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই আমরা কৃষকদের যাদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ ছিল তাদের সেই কৃষি ঋণ আমরা মওকুফ করেছি। এছাড়া বিভিন্ন চিনিকল ও কলকারখানা যেগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বহু মানুষ বেকার হয়ে গিয়েছে, সেই কলকারখানাগুলো চালুর ব্যবস্থা ইনশাল্লাহ আমরা করব। আগামী দুই-চার মাসের মধ্যে ইনশাল্লাহ বাংলাদেশের অনেক বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা আবার চালু করা সম্ভব হবে যার ফলে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।’
বক্তব্যের শেষ অংশে তিনি সকল ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে—মসজিদের ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনসহ সকল ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য সরকারিভাবে সম্মানীর ব্যবস্থা করব। আলহামদুলিল্লাহ, সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন আমরা ইতিমধ্যেই শুরু করেছি। দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে বিএনপি যতদিন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, ইনশাআল্লাহ, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি জবান আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার আপ্রাণ চেষ্টা করব।’